ঘটনাটি ২০১০ সালের। অভিযোগ, হুগলির জঙ্গিপাড়া (Hooghly Jangipara) থানার তৎকালীন ওসি-র বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মী রবীন ঘোষকে (Rabin Ghosh) গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 18 December 2025 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলিতে তৃণমূল কর্মী খুনের (Trinamool) ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই মামলায় নতুন মোড়।
ঘটনাটি ২০১০ সালের। ১৪ ফেব্রুয়ারি হুগলির জাঙ্গিপাড়ায় প্রসাদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট চলছিল। অভিযোগ, হুগলির জঙ্গিপাড়া (Hooghly Jangipara) থানার তৎকালীন ওসি তাপসব্রতী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মী রবীন ঘোষকে (Rabin Ghosh) গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকেই রবীন ঘোষকে গুলি করা হয়। নিহতের পরিবার ও তৃণমূলের দাবি, স্কুল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিপিএম (CPIM) কর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই এই খুন করা হয়েছিল।
এই ঘটনার তদন্ত এতদিন চলছিল সিআইডির (CID) হাতে। কিন্তু এত বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোনও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তোলে নিহতের পরিবার। ন্যায়ের আশায় তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।
সব দিক খতিয়ে দেখে আদালত মনে করেছে, রাজ্য পুলিশের (State Police) তদন্তে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়নি। সেই কারণেই এই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
আদালতের এই নির্দেশে নিহতের পরিবার নতুন করে ন্যায়বিচারের আশায় বুক বাঁধছে। অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও এই নির্দেশ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে, বুধবার পানিহাটি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর (Panihati TMC councillor) অনুপম দত্ত খুনের ঘটনায় (Anupam Dutta murder case) দোষীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা (Life imprisonment) শোনায় আদালত। বুধবার ব্যারাকপুর আদালত (Barrackpore court) অমিত পণ্ডিত, সঞ্জীব পণ্ডিত ওরফে বাপি এবং জিয়ারুল মণ্ডল - এই তিন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এলাকার একটি জমি প্রোমোটিংয়ের উদ্দেশ্যে দখলের চেষ্টা করছিল সঞ্জীব পণ্ডিত ওরফে বাপি। অনুপম এর প্রতিবাদ করায় তাঁর সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয়। তার জেরেই খুনের পরিকল্পনা, দাবি তদন্তকারীদের।
এর আগে সোমবারই এই তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত (TMC councillor murder case)। ঘটনার সাড়ে তিন বছর পর সাজা ঘোষণা হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন নিহত কাউন্সিলরের স্ত্রী, পরিবার।
বুধবার সকাল থেকেই ব্যারাকপুর আদালত চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুপুরে বিচারক খুন, খুনের চক্রান্ত এবং অস্ত্র আইনে তিন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেন।