রাতের অন্ধকারে হঠাৎ একটি বাড়ির দরজায় 'নক' করায় গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিককালে অপরাধী প্রবণতা ও সন্দেহজনক ড্রোন দেখার গুজব ছড়িয়েছিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 August 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হলেন (Mob lynching in Uttar Pradesh) ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জওয়ান ও তাঁর ভাই। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার গভীর রাতে, উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগর জেলার বল্ওয়া খেড়ি গ্রামে (Muzaffarnagar mob attack)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিছক ভুল বোঝাবুঝির জেরে দুই নিরীহ যুবককে নৃশংসভাবে মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আহতদের মধ্যে একজন মোহন, মণিপুরে পোস্টেড এক সেনা জওয়ান। তিনি ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভাই রোশন। তাঁরা বাইকে করে সাহারানপুরে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। সেই পথেই ঘটে এই বিভীষিকাময় ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনে সাহারানপুর রওনা হওয়ার আগে মদ্যপান করেছিলেন। মাঝপথে তাঁদের বাইকের পেট্রোল ফুরিয়ে যায়। গন্তব্যে পৌঁছনোর আশায় এক প্রত্যন্ত গ্রামে (Balwa Khedi village) তাঁরা সাহায্য চাইতে যান।
রাতের অন্ধকারে হঠাৎ একটি বাড়ির দরজায় 'নক' করায় গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিককালে অপরাধী প্রবণতা ও সন্দেহজনক ড্রোন দেখার গুজব ছড়িয়েছিল। সেই আতঙ্ক থেকেই মোহন ও রোশনকে চোর ভেবে তাঁদের উপর চড়াও হন বহু গ্রামবাসী।
লাঠি ও বাঁশ দিয়ে দু’জনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন, অন্যজন কাতর স্বরে ভিড়ের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁদের উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সদর সার্কেলের অফিসার দেবব্রত বাজপেয়ী বলেন, “ভিড় এমন ছিল যে, আমরা পৌঁছতে পৌঁছতেই দু’জনকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছিল। কোনওক্রমে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা গুরুতর আহত।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রামবাসীরা দু’জনকে চোর বলে ভুল করেছিল। একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুজফ্ফরনগর পুলিশ (Muzaffarnagar Police) একটি সরকারি বিবৃতি জারি করে জানায়, “গ্রামে সন্দেহজনক কোনও ঘটনা বা ব্যক্তিকে চোখে পড়লে ১১২ নম্বরে ফোন করে অবিলম্বে পুলিশকে জানান। আইন হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে সেনা জওয়ান মোহন ও তাঁর ভাই রোশন জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ দোষীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, গুজবের ভিত্তিতে ‘মব জাস্টিস’-এর প্রবণতা কী ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।