গালওয়ান নিয়ে মন্তব্যের জেরেই সুপ্রিম কোর্ট কার্যত ধমক দিয়েছে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে। তিনি দাবি করেছিলেন, চিন ভারতের বিরাট অংশ দখল করে নিয়েছে।

জয়রাম রমেশ
শেষ আপডেট: 4 August 2025 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে ফের কড়া সমালোচনায় কংগ্রেস (Congress)। সোমবার কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) মোদী সরকারকে (Narendra Modi Govt) বিঁধতে সাহায্য নেন শাহরুখ খানের সিনেমার (Shah Rukh Khan)! শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে তিনি বলিউড অভিনেতার সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে বড় অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে।
শাহরুখ খানের কালজয়ী সিনেমাগুলির একটি হল - দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে। ছোট করে বললে 'ডিডিএলজে' (DDLJ)। এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেই বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস (Congress)। দলীয় সাংসদ জয়রাম রমেশের কথায়, মোদী সরকার 'ডিডিএলজে’ নীতি অনুসরণ করছে চিন সম্পর্কিত ইস্যুতে (Indo-China Issue)।
কী এই 'ডিডিএলজে' নীতি?
‘ডি - ডিনাই, ডি- ডিসট্র্যাক্ট, এল - লাই আর জে - জাস্টিফাই’ (অর্থাৎ, অস্বীকার, দৃষ্টি ঘোরানো, মিথ্যা বলা এবং যৌক্তিকতা দেখানোর চেষ্টা)। জয়রাম বলেন, এমনভাবে চিনা ইস্যুতে মুখে কুলুপ আঁটছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার (BJP)। গালওয়ান উপত্যকায় (Galwan Valley) ২০২০ সালের ১৫ জুন ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে রমেশ বলেন, ‘‘সেদিনের পর থেকে প্রতিটি দেশভক্ত নাগরিক জানতে চেয়েছে ঠিক কী ঘটেছিল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে মোদী সরকার শুধু সত্য গোপনই করেনি, প্রশ্নের জবাব না দিয়ে দোষ এড়ানোর চেষ্টা করেছে।’’
প্রসঙ্গত, গালওয়ান নিয়ে মন্তব্যের জেরেই সুপ্রিম কোর্ট কার্যত ধমক দিয়েছে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে। তিনি দাবি করেছিলেন, চিন ভারতের বিরাট অংশ দখল করে নিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে জানতে চায়, দাবি অনুযায়ী চিন ২ হাজার বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে এই তথ্য তিনি কোথায় পেলেন। এর পরেই বিজেপি নেতারা পাল্টা আক্রমণে নামেন।
এই প্রেক্ষিতে জয়রাম রমেশ আট দফা প্রশ্ন তুলে মোদী সরকারের বক্তব্য ও পদক্ষেপের মধ্যে ‘পরস্পরবিরোধিতা’ রয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘১৫ জুন ২০২০-তে গালওয়ানে ২০ জন জওয়ানের প্রাণ গেল। অথচ ১৯ জুন প্রধানমন্ত্রী কেন বলেছিলেন — ‘না কেউ আমাদের সীমান্তে ঢুকেছে, না কেউ ঢুকে রয়েছে’? এই বক্তব্য কি চিনকে ক্লিন চিট দেওয়া নয়?’’
তিনি আরও প্রশ্ন করেন — সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর মতে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর হওয়া ‘উইথড্রয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট’ যদি এপ্রিল ২০২০-র অবস্থানই পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে, তবে ভারতীয় বাহিনী কি আগের মতো স্বাধীনভাবে পেট্রোলিং পয়েন্টে যেতে পারছে? নাকি এখন চিনের অনুমতি নিতে হচ্ছে?
২০২০ সালের কিছু রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, লাদাখের প্রায় হাজার বর্গকিমি এলাকা, যার মধ্যে ৯০০ বর্গকিমি ডেপসাং এলাকায়, চিনের দখলে চলে গেছে। এই ভূখণ্ড নিয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবি জানান তিনি।
জয়রামের রমেশ এও প্রশ্ন, চিনের সঙ্গে উত্তেজনা চলাকালীন কেন ভারত চিনা পণ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে পারেনি? এবং কেন চিনের মদতেই পাকিস্তানের সেনা অপারেশন ‘সিন্ধূর’-এর বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে?

সীমান্ত নিরাপত্তা, কূটনীতি ও বাণিজ্যিক নির্ভরতা - তিন ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস ফের চাপ বাড়াল বিজেপি সরকারের উপরে। এখন দেখার, পাল্টা কী জবাব আসে কেন্দ্রের শাসক দলের তরফে।