'অপারেশন সিঁদুর' আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় পক্ষের অন্যতম মুখ ছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি।

শেষ আপডেট: 25 January 2026 23:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগাম হামলার উত্তরে পাক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান চালিয়েছিল ভারত। এই অপারেশনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় পক্ষের অন্যতম মুখ ছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি (Colonel Sofiya Qureshi)। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস সম্মান তালিকায় (Republic Day honours Indian Army) তাঁকে ‘বিশিষ্ট সেবা মেডেল’- (Vishisht Seva Medal) এ ভূষিত করা হয়েছে।
“উচ্চস্তরের বিশিষ্ট সেবা”-র স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া এই পুরস্কার কর্নেল কুরেশির (Colonel Sofiya Qureshi Vishisht Seva Medal) সামরিক জীবনে আর-একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তো বটেই।
৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সশস্ত্র বাহিনীর ৭০ জন সদস্যকে বীরত্ব পুরস্কারের অনুমোদন দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ছয় জন মরণোত্তর সম্মান পাচ্ছেন। পাশাপাশি, সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য কর্মীদের জন্য মোট ৩০১টি সামরিক সম্মানও অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০টি পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল, ৪টি উত্তম যুদ্ধ সেবা মেডেল, ৫৬টি অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল, ৯টি যুদ্ধ সেবা মেডেল, ২টি বার টু সেনা মেডেল (ডিস্টিংগুইশড), ৪৩টি সেনা মেডেল (ডিস্টিংগুইশড), ৮টি নৌসেনা মেডেল (ডিস্টিংগুইশড), ১৪টি বায়ুসেনা মেডেল (ডিস্টিংগুইশড) এবং ১৩৫টি বিশিষ্ট সেবা মেডেল।
কে এই কর্নেল সোফিয়া কুরেশি?
২০১৬ সালে কর্নেল কুরেশি প্রথম মহিলা অফিসার হিসেবে বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় ভারতীয় সেনার একটি কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেন। ‘এক্সারসাইজ ফোর্স ১৮’-এ, যেখানে ASEAN-Plus দেশগুলি অংশ নিয়েছিল, তিনি ৪০ সদস্যের একটি দলকে নেতৃত্ব দেন, যাদের কাজ ছিল Humanitarian Mine Action (HMA)।
১৯৭৪ সালে গুজরাতের ভাদোদরায় এক সামরিক পরিবারে জন্ম তাঁর। ১৯৯৭ সালে মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজ্য সরকারের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, তাঁর দাদু সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন।
চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি (OTA) থেকে কমিশন পান কুরেশি। সেখানে কৌশলগত পরিকল্পনা ও সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্সে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল।
সংযত ব্যক্তিত্ব ও অত্যন্ত স্পষ্ট যোগাযোগভঙ্গির জন্য তিনি পরিচিত, বিশেষ করে প্রেস ব্রিফিংয়ে, যেখানে ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিং-এর সঙ্গে তিনি দায়িত্ব সামলেছেন।
অপারেশন সিঁদুরের পর, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির প্রাথমিক বিবৃতির পর কর্নেল কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিং যৌথভাবে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন - কীভাবে হামলা চালানো হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করেন।
২০০১ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় সংসদে জঙ্গি হামলার পর পাঞ্জাব সীমান্তে শুরু হওয়া ‘অপারেশন পরাক্রম’-এও কর্নেল কুরেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর অসামান্য কাজের জন্য জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (GOC-in-C)-এর কাছ থেকে তিনি ‘Commendation Card’ পান।
উত্তর-পূর্ব ভারতে বন্যাত্রাণ অভিযানের সময় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা সামলানোর দক্ষতার জন্য সিগন্যাল অফিসার-ইন-চিফ (SO-in-C)-এর কাছ থেকেও তিনি প্রশংসাপত্র পান।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে ২০০৬ সাল থেকে ছয় বছর কঙ্গোতে দায়িত্ব পালন করেন কর্নেল কুরেশি। তাঁর কথায়, “সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আমার কাছে গর্বের মুহূর্ত।”