বিজেপি মন্ত্রীর কুরুচিকর মন্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে ব্যোমিকা সিংহের জাত উল্লেখ করে বিতর্কে সমাজবাদী সাংসদ রামগোপাল যাদব। সেনা-কর্মীদের ধর্ম ও জাত নিয়ে রাজনীতি চরমে।

কুকথার শিকার উইং কমান্ডার ব্যোমিকাও।
শেষ আপডেট: 16 May 2025 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি। সেই আগুনে এবার নতুন করে ঘি ঢাললেন উত্তরপ্রদেশের প্রবীণ এসপি সাংসদ রামগোপাল যাদব। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী বিজয় শাহ-এর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে গিয়ে তিনি বায়ুসেনার অফিসার ব্যোমিকা সিংহের জাত উল্লেখ করলেন। আর সেখানেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।
বিজেপি নেতা বিজয় শাহ এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘যারা আমাদের মা-মেয়ের সিঁদুর মুছে দেয়, তাদের বোনকেই কাজে লাগিয়ে মোদীজি ওদের জবাব দিয়েছেন।’’
যদিও সরাসরি কর্নেল সোফিয়ার নাম তিনি উল্লেখ করেননি, কিন্তু তাঁর মন্তব্য স্পষ্টভাবেই সোফিয়ার দিকে ইঙ্গিত করছিল। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীদের শাস্তি দিতে তাঁদেরই সম্প্রদায়ের এক বোনকে ব্যবহার করা হয়েছে।
বিজয়ের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় প্রবল রাজনৈতিক আলোড়ন। কংগ্রেস তাঁকে বরখাস্ত করার দাবি তোলে। এমনকি, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করে বিজেপি মন্ত্রীকে।
এই প্রেক্ষিতেই সমাজবাদী সাংসদ রামগোপাল যাদব বলেন, “ওদের এক মন্ত্রী কর্নেল কুরেশিকে অপমান করেছেন। কিন্তু তিনি জানতেন না ব্যোমিকা সিংহ কে, বা এয়ার মার্শাল একে ভারতী কে। যদি জানতেন, তাঁরাও রেহাই পেতেন না।”
এখানেই থেমে না থেকে তিনি দাবি করেন, “ব্যোমিকা হলেন হরিয়ানার জাটভ সম্প্রদায়ভুক্ত। আর এয়ার মার্শাল ভারতী বিহারের যাদব। সোফিয়া মুসলিম। এঁরা তিন জনই পিছিয়ে পড়া শ্রেণির প্রতিনিধি—পিছড়া, দলিত, সংখ্যালঘু।”
রামগোপাল স্পষ্ট করে বলেন, একজনকে মুসলিম বলে অপমান করা হয়েছে, আর একজনকে রেহাই দেওয়া হয়েছে কারণ তাঁকে রাজপুত ভেবে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয়জনকে নিয়ে মন্তব্য হয়নি কারণ তাঁর পরিচয় জানা ছিল না।
এই জাতভিত্তিক মন্তব্যের পরেই উত্তাল হয় রাজনৈতিক মহল। সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, “সেনা ইউনিফর্মে থাকা কোনও জওয়ান জাত, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নন। তাঁরা দেশের সেবায় নিয়োজিত, আর তাঁদের জাত তুলে দেখার মানসিকতা সংকীর্ণতা ছাড়া কিছু নয়।”
যোগীর প্রতিক্রিয়ার পর পাল্টা সাফাই দেন রামগোপাল। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আমার সম্পূর্ণ বক্তব্য না শুনেই মন্তব্য করছেন। আমি শুধুই বাস্তব তুলে ধরেছি, রাজনীতি করিনি।”
উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহ নিয়মিত বিদেশ মন্ত্রক ও সেনার সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেন। পাকিস্তানে হামলার ফলাফল এবং ইসলামাবাদের বিভ্রান্তিকর দাবিগুলিকে খণ্ডন করার দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা।
রাজনৈতিক তরজায় যেভাবে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও জাত তুলে আক্রমণ চলছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বহু নাগরিক। দেশরক্ষার কাজে যুক্ত সেনা-কর্মীদের জাত ও ধর্মের ভিত্তিতে বিচার করা যে আদৌ যুক্তিসঙ্গত নয়, তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই।