ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। এক সরকারি অনুষ্ঠানে কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে 'জঙ্গিদের বোন' বলে ব্যাখ্যা করা হয়।

কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও বিজেপি মন্ত্রী
শেষ আপডেট: 15 May 2025 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে 'জঙ্গিদের বোন' বলায় হইচই পড়েছে দেশজুড়ে। রীতিমতো বিপাকে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বিজয় শাহ। বুধবারই এনিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট মামলার নির্দেশ দিয়েছে। সামান্য বিলম্ব না করে তাই এই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সেখানে রীতিমতো ধাক্কা খেলেন বিজয় শাহ। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই কেসে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না এখনই।
বৃহস্পতিবার শাহের আবেদন শুনানির জন্য ওঠে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। এই নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রীকে কার্যত ধুয়ে দেন বিচারপতি। বলেন, 'একজন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। তিনি কী ধরনের মন্তব্য করছেন? একজন মন্ত্রীর পক্ষে এ ধরনের বক্তব্য কি গ্রহণযোগ্য?'
আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, 'দেশ যখন একটা সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তখন এমন ব্যক্তিদের মুখ থেকে বেরোনো প্রতিটা শব্দ মানুষের কানে পৌঁছে যায়। আপনি জানেন আপনি কে, ২৪ ঘণ্টায় কিছু হবে না।'
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজয় শাহ বলে বসেন, 'যারা আমাদের মেয়েদের বিধবা করেছে (২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা প্রসঙ্গে), তাদের শিক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই সম্প্রদায়ের একজন বোনকে পাঠিয়েছেন।' এই মন্তব্যে কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে 'জঙ্গিদের বোন' বলে ব্যাখ্যা করা হয়।
এই বক্তব্যকে 'অশালীন, নোংরা ও অপমানজনক' বলে উল্লেখ করে হাইকোর্ট এবং স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করে এফআইআরের নির্দেশ দেয়। বিজয় শাহর আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছন সঙ্গে সঙ্গে। দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বক্তব্যকে ‘ভুলভাবে ব্যাখ্যা’ করা হয়েছে এবং মিডিয়া তা অতিরঞ্জিত করছে। তিনি বলেন, 'মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন, অনুতপ্ত হয়েছেন এবং তাঁর বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে।'
এই ঘটনার জেরে দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনা শুরু হলে বিজয় শাহ ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চান। বলেন, 'আমি শুধু লজ্জিতই নই, গভীরভাবে দুঃখিত। মন থেকে আমি ক্ষমা চাইছি।' তবে এসবের পরও ইন্দোরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।
বিজয় শাহ শাসক দল বিজেপির মন্ত্রী। ফলে তাঁর এমন মন্তব্যে বিরোধীরা গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে মন্তব্যকে 'অপমানজনক, লজ্জাজনক এবং অশ্লীল' বলে অভিহিত করেন। অপসারণের দাবিও তোলেন।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি শুক্রবার। এখন দেখার বিষয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে এবং এই বিতর্কের পরিণতি কী হয়।