ঘটনার সূত্রপাত মধ্যপ্রদেশের মহোতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। যেখানে বিজয় শাহ বলেন, 'জঙ্গিরা আমাদের বোনদের সিঁদুর মুছে দিয়েছিল, আর আমরা তাঁদের নিজের বোনকে পাঠালাম তা ফিরিয়ে দিতে।'

কর্নেল কুরেশি ও মন্ত্রী বিজয় শাহ
শেষ আপডেট: 14 May 2025 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বিজয় শাহ-র (Vijay Shah) বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। কর্নেল সোফিয়া কুরেশি (Colonel Sofiya Qureshi)-কে নিয়ে তাঁর করা অবমাননাকর, সাম্প্রদায়িক এবং নারী বিদ্বেষী মন্তব্যের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করেছে আদালত। রাজ্য পুলিশকে সরাসরি এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার কথা সামনাসামনি আসার পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল।
ঘটনার সূত্রপাত মধ্যপ্রদেশের মহোতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। যেখানে বিজয় শাহ বলেন, 'জঙ্গিরা আমাদের বোনদের সিঁদুর মুছে দিয়েছিল, আর আমরা তাঁদের নিজের বোনকে পাঠালাম তা ফিরিয়ে দিতে।' এরপর তিনি আরও বলেন, 'হিন্দুদের নগ্ন করে মেরেছে, আর মোদীজি এক বোনকে পাঠালেন বদলা নিতে। আমরা ওদের কাপড় ছিঁড়তে পারিনি, তাই ওদের সমাজের একজন মেয়েকে পাঠালাম… তোমরা আমাদের বোনদের বিধবা করেছো, তাই তোমাদের সমাজের এক বোন তোমাদের নগ্ন করবে। মোদীজি দেখিয়ে দিলেন, তোমাদের জাতের মেয়েরাও পাকিস্তানে গিয়ে বদলা নিতে পারে।'
এই ধরণের মন্তব্য কর্নেল সোফিয়া কুরেশির প্রতি চরম অবমাননাকর বলে মনে করেছেন অনেকেই। কর্নেল কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) নিয়ে হওয়া মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রায় প্রতিদিনই বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির সঙ্গে উপস্থিত থেকেছেন এবং এই সেনা অভিযানের মুখ হয়ে ওঠেন। আর এই পরিপ্রেক্ষিতেই মন্ত্রীর মন্তব্যকে আরও স্পর্শকাতর এবং অপমানজনক বলে দেখা হয়।
এই মন্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সাবিত্রী ঠাকুর, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং বর্তমান বিধায়ক ঊষা ঠাকুর সঙ্গে বিজেপির স্থানীয় নেতারা। এতজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সামনে এমন মন্তব্য ও তার প্রতিবাদ না হওয়ায়, প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল, সকলেই ছিঃ ছিঃ করেছে। সেনাবাহিনীর প্রাক্তন অফিসাররা ও বিরোধী দলের কর্মকর্তারাও কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সরাসরি বিজয় শাহকে বরখাস্ত করার দাবিও তোলেন এই মন্তব্যের পর।
প্রথমে মন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য ‘বাইরে টেনে এনে ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে। পরে অবশ্য কিছুটা পিছু হটেন এবং বলেন, 'কর্নেল সোফিয়া কুরেশি আমার নিজের বোনের থেকেও বেশি, কারণ তিনি জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের হয়ে বদলা নিয়েছেন। আমার কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। তবুও কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি একবার নয়, দশবার ক্ষমা চাইছি।'
তবে এখন আর ক্ষমা চাওয়ায় থেমে যাচ্ছে না বিষয়টা। আদালতের হস্তক্ষেপে এবার আইনি পদক্ষেপ শুরু হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে।