গত কয়েকদিন ধরেই ভাইরাল একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় মন্ত্রী বিজয় শাহ সেনার মহিলা অফিসার কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে 'জঙ্গিদের বোন' বলে আখ্যা দেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 May 2025 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবশেষে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করল মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী বিজয় শাহর করা অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্যের তদন্তে নামবে এই দল। 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে সরকারি ব্রিফিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন কর্নেল কুরেশি। তাঁকে 'জঙ্গিদের বোন' বলায় ছিঃ ছিঃ করতে শুরু করে গোটা দেশ। তারপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
নতুন গঠিত এই সিটে রয়েছেন, সাগর রেঞ্জের আইজি প্রমোদ বর্মা, ভোপালের স্য়াফের ডিআইজি কল্যাণ চক্রবর্তী এবং দিনদোরির পুলিশ সুপার বাহিনী সিং। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তকারী দলে একজন মহিলা অফিসার থাকা বাধ্যতামূলক এবং নেতৃত্বে থাকতে হবে আইজি পদমর্যাদার কোনও অফিসারকে। এছাড়াও, সিটের সদস্যরা যেন মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের হলেও রাজ্যের বাইরে থেকে আগত হন। সেই কথা মাথায় রেখেই এই দল গঠন করা হয় এদিন।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৮ মে’র মধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দলকে তাদের প্রথম স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
গত কয়েকদিন ধরেই ভাইরাল একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় মন্ত্রী বিজয় শাহ সেনার মহিলা অফিসার কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে 'জঙ্গিদের বোন' বলে আখ্যা দেন। পহেলগামের জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'ওরা হিন্দুদের উলঙ্গ করে মেরেছে। আর মোদীজি তাদের বোনকে পাঠিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছেন। আমরা ওদের উলঙ্গ করতে পারিনি, তাই ওদের সম্প্রদায়ের একজন মেয়েকে পাঠিয়েছি... আমাদের বোনদের বিধবা করেছ, এবার তোমাদের বোনকেই উলঙ্গ করবে আমাদের বোন।'
এই মন্তব্যে দেশজুড়ে ছড়ায় ক্ষোভ। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করে ও মামলার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মন্ত্রীর মন্তব্য ধর্মীয় সম্প্রীতিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমন মন্তব্য থেকে মানুষের মনে এই ধারণা জন্মাতে পারে যে, একজন ব্যক্তির জাতির জন্য অবদানের পরেও শুধুমাত্র তার ধর্মের ভিত্তিতে অবমাননার মুখে পড়তে হতে পারে।
বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করতেই এক পর্যায়ে ক্ষমা চান বিজয় শাহ। তবে শীর্ষ আদালত তাঁর ক্ষমা প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতি সূর্যকান্ত তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'এটা কী ধরনের ক্ষমা? ক্ষমা শব্দের তো একটা অর্থ আছে। অনেক সময় লোকজন আইনের হাত থেকে বাঁচতে শান্ত ভাষা ব্যবহার করে, কুম্ভীরাশ্রু ঝরায়। আপনি ঠিক কোন ধরনের ক্ষমা চেয়েছেন? মনে হচ্ছে আপনি আদালতের চাপে পড়ে ক্ষমা চাইছেন। এতদিন ধরে আপনি কোনও আন্তরিক ক্ষমা প্রস্তাব দিলেন না কেন?'
অবশেষে, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত। শীর্ষ আদালতই বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দেয়।