
শীর্ষ আদালত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গড়েছে।
শেষ আপডেট: 19 May 2025 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নেল সোফিয়া কুরেশি সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করে বেজায় ফাঁপরে পড়েছেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি মন্ত্রী বিজয় শাহ। সুপ্রিম কোর্ট আজ, সোমবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। আপনার আচরণে ও কথায় গোটা দেশের মাথা ঝুঁকে গিয়েছে। গোটা জাতি লজ্জিত। বিজেপি মন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনাকে খারিজ করে দিয়ে শীর্ষ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গড়েছে।
বিচারপতি সূর্য কান্ত ও কোটীশ্বর সিংয়ের বেঞ্চ বলে, কী ধরনের ক্ষমা? কী ছিল সেই ক্ষমাপ্রার্থনায়? আইনের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই ক্ষমা চেয়ে নেন। কোনও সময় কুমিরের কান্নাও কাঁদেন। আপনারটা এর মধ্যে কোন ধরনের? আপনি যে নির্বোধের মতো কথা বলেছেন, তা পুরোপুরি চিন্তার বাইরে। আপনার ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই আমাদের। আমরা জানি এসব ক্ষেত্রে কীভাবে আইনি পদ্ধতিতে পা বাড়াতে হয়।
আদালত আরও বলেছে, আপনি তো জনপ্রতিনিধি। পোড়খাওয়া রাজনীতিক। আপনার তো জানা উচিত কী ভাষায় কথা বলতে হয়। এরপরেই বেঞ্চ রাজ্যকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলে, আপনারা কেন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি? আপনারা কী করেছেন? মানুষ আশা করে সরকারের পদক্ষেপ স্বচ্ছ হবে। হাইকোর্ট তার কাজ করেছে, কিন্তু আপনাদেরও তো কিছু করা উচিত ছিল।
পাকিস্তানি জঙ্গি নিকেশ অভিযান অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিদেশ-প্রতিরক্ষার সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। সেই সোফিয়া একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাঁকে জঙ্গিদের বহেনা বলে কুমন্তব্য করেছিলেন বিজয় শাহ। তার পর থেকেই শুধু মধ্যপ্রদেশ বিজেপি নয়, সর্বভারতীয় স্তরেও মোদী-শাহের সরকার অস্বস্তিতে পড়ে যায়।
বিজয় শাহকে এক মহিলা সেনা অফিসার সম্পর্কে অপমানজনক ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জন্য আদালত ক্ষমা চাইতে বলে। তাতেও খুশি না হয়ে তিন আইপিএস অফিসারকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। মন্ত্রীপদে থেকেও এরকম নির্বোধ মন্তব্যের জন্য আদালতে প্রবল ভর্ৎসনা করে। বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন বলেন, উনি যথাযথভাবে ও আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চাননি।
যে তিন আইপিএস অফিসারকে নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, তাঁদের কেউ মধ্যপ্রদেশের হতে পারবেন না। এবং তিনজনের মধ্যে একজন মহিলা আইপিএস অতি অবশ্যই থাকতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। আগামিকাল, মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে একজন আইজিপি ও দুজন এসপি অথবা তদোর্ধ্ব পদমর্যাদার অফিসারকে নিয়ে তিন সদস্যের সিট গঠনের জন্য মধ্যপ্রদেশের ডিজিপিকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করলে এই মুহূর্তে বিজয় শাহকে গ্রেফতার না করার কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সিটকে আগামী ২৮ মে শুনানির আগের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। মৌখিকভাবে আদালত বলেছে, শাহের মন্তব্যে গোটা দেশ লজ্জিত বোধ করেছে। বিচারপতি কান্ত বলেন, আপনি এখন ভাবুন, কীভাবে এই ক্ষতিপূরণ করতে পারবেন। আমরা সেই দেশের মানুষ, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে।