সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়ে একমত হয়েছে বিরোধীরা। সংসদে শীঘ্রই সেই প্রস্তাব জমা পড়তে পারে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 3 February 2026 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (impeachment) প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করল বিরোধীরা। সংসদের দুই কক্ষে এই প্রস্তাব উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর। বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে, চলতি বাজেট অধিবেশনেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হতে পারে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR West Bengal) ঘিরে রাজ্য–রাজনীতিতে তরজা এখন চরমে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং তার ফলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়ে একমত হয়েছে বিরোধীরা। সংসদে শীঘ্রই সেই প্রস্তাব জমা পড়তে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী শরিকদের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কার্যত প্রহসনে পরিণত করেছেন এবং বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। বিরোধী শিবিরে এই অভিযোগে মোটামুটি ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সূত্রের তরফে বলা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিজেপির ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে। দেশের অন্য প্রান্তে এই কাজ অনায়াসে করা গেলেও পশ্চিমবঙ্গে এসে বাধার মুখে পড়েছে। সোমবার প্রস্তাবিত বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অপমান করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করার এই চেষ্টায় অমর্ত্য সেনও রেহাই পাচ্ছেন না। মানুষ ভোট দিয়ে ঠিক করেন কে শাসক হবে, আর এখন বিজেপি ঠিক করে দিচ্ছে কে ভোটার হবে।”
দিল্লিতে থাকাকালীন ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গে ইঙ্গিত দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও। রাহুল গান্ধীর তরফে বার বার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষা-কবচ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে মমতা বলেন, “আমি চাই ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের সংখ্যা নেই, সেটা ঠিক। কিন্তু প্রস্তাব তো আনা যায়। সংবিধানে সেই প্রভিশন আছে। অন্তত রেকর্ডে তো থাকবে। জনস্বার্থে আমরা সবাই একজোট হয়ে কাজ করছি।”
তবে বিরোধীদের এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কেন্দ্রের মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর মন্তব্য, “ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব যে কেউ আনতে পারে। কিন্তু সংখ্যা কোথায়? দম নেই। দেশের মানুষ তো আপনাদের বেছে নেয়নি। যতই বাংলা, উর্দু, ইংরেজিতে কবিতা লেখেন, দেশের মানুষ ভোট দেয়নি। পিছনের বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছে।"