মমতা-জ্ঞানেশ বৈঠকেও 'লজিক' (Logic) খুঁজল কমিশন। সূত্রের পাওয়া খবর অনুযায়ী ছবিটা এরকম। ঘড়িতে বিকেল চারটে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 2 February 2026 20:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মমতা-জ্ঞানেশ বৈঠকেও 'লজিক' (Logic) খুঁজল কমিশন। সূত্রের পাওয়া খবর অনুযায়ী ছবিটা এরকম। ঘড়িতে বিকেল চারটে। দিল্লির নির্বাচন (Election Cmmission) সদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এসআইআর-এ ভুক্তভোগীদের নিয়ে সদলবলে ঢুকলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উল্টো দিকে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। 'এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত' পরিবারগুলির সঙ্গে পরিচয় করাচ্ছেন মমতা। তারপরই অভিযোগের ঝুলি খুলতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর বৈঠক শুরু হয়েছে কি হয়নি, জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar) উত্তরে বলেন, "এই অভিযোগের কোনও লজিক আছে কি? কেন কথা শুনতে হবে?" এতেই বিরক্ত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা জানিয়ে দেন, "কথাই যখন শোনা হবে না তাহলে এখানে থাকার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।" এরপরই কমিশনের বিরুদ্ধে অসম্মান করার অভিযোগ তুলে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
এরপরের ঘটনা কম-বেশি সবারই জানা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, "এরকম মিথ্যাবাদী কমিশন আমি কখনও দেখিনি। বহুদিন রাজনীতি করেছি, এরকম ঔদ্ধত্য আগে দেখিনি আমি।" তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে কমিশন।
নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অসম্মান, অপমান করা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, কমিশনের বৈঠকে এমন একজনকে উপস্থিত করা হয়েছিল যিনি নির্বাচন কমিশনের কোনও আধিকারিক নন। মমতার প্রশ্ন, “সীমা খন্না কে? উনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের লোক।”
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ এত বড় সংখ্যায় ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রশ্নই তোলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। কমিশনের এই নীরবতা নিয়েই তাঁর যত আপত্তি।
এদিনের বৈঠকের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকের সময় কমিশনের নিজস্ব ক্যামেরাম্যানরা উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু বাইরের ক্যামেরাম্যানদের সেখানে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মমতা বলেন "আপনাদের যা ইচ্ছা তাই করবেন তা তো হয় না। বহুদিন রাজনীতি করেছি, মন্ত্রীও ছিলাম। এরকম অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন কখনও দেখিনি।”