কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে তাঁর কটাক্ষ, “দিল্লির জমিদাররা ভোটারের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, ক্ষমতা থাকলে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করো। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রের মতো কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় ভোটের নামে প্রহসন করতে দেব না।”
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তাড়াহুড়োর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কমিশন এআই-এর অপব্যবহার করছে। মাইক্রো অবজারভাররা আদালতের নির্দেশ মানছে না। ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপিন্সি’র নামে জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ছে। মমতার প্রশ্ন, “দু’বছরের কাজ কেন দু’মাসে করা হবে? বিএলওদেরও হেনস্থা করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। যাঁরা মারা গেলেন, তাঁদের দায় কে নেবে?”
সোমবার বঙ্গভবনে তল্লাশির নামে দিল্লি পুলিশ কী ভাবে হেনস্থা করেছে, তা নিয়ে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যেরা। অভিযোগ, সকাল থেকেই বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের অস্বাভাবিক তৎপরতা চোখে পড়ে। এলাকা পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ হয়ে যায়। বঙ্গভবন ঘিরে ফেলা হয় এবং ভিতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। মমতার অভিযোগ, “দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবনে ঢুকে ঘরে ঘরে সার্চ করছে। এখানে বাংলার মানুষ থাকছেন। এটা আমাদের ভবন, ওরা এটা করতে পারে না।”
ওই মঞ্চ থেকেই ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বাংলার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে রাখা থেকে এজেন্সির অপব্যবহার নিয়েও সরব হন তিনি। মমতার অভিযোগ, ভোট এলেই বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। কেন বেছে বেছে বাংলাকেই বারে বারে টার্গেট করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন মমতা।
দেশজুড়ে বাঙালিদের উপর বাংলাদেশি সন্দেহে নিপীড়নের অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন রাখেন, সীমান্ত সুরক্ষা কার দায়িত্বে? এসআইআর এর কত অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ গেল, সেই প্রশ্নও তোলেন। বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কটাক্ষ, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। বাংলাদেশের অশান্তির ভিডিও দেখিয়ে বাংলার ছবি বলে চালানো হচ্ছে।”
বিএলওদের বকেয়া টাকা প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, কমিশনের ঘরে এক হাজার কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। কমিশন টাকা দিলেই বিএলওদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে রসিকতার সুরে মমতা বলেন, ২৬ এর ভোটে জিতে আবার আসব। তখন আপনাদের মিষ্টি খাওয়াব। তবে দিল্লির লাড্ডু নয়!