Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

জ্ঞানেশ কুমার আমাকে থ্রেট করছিলেন, টেবিল চাপড়ে বলেছি এভাবে চিৎকার করবেন না: মুখ্যমন্ত্রী

“দিল্লির জমিদাররা ভোটারের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি—ক্ষমতা থাকলে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করো। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রের মতো কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় ভোটের নামে প্রহসন করতে দেব না।”

জ্ঞানেশ কুমার আমাকে থ্রেট করছিলেন, টেবিল চাপড়ে বলেছি এভাবে চিৎকার করবেন না: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব চিত্র।

সুমন বটব্যাল

শেষ আপডেট: 3 February 2026 17:19

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর ইস্যুতে (SIR Issue) রাজধানী দিল্লি থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এসআইআরের কারণে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’দের পরিজনদের দিল্লির বঙ্গভবনে (Bangabhaban ) সোমবার পুলিশি হেনস্থার অভিযোগে মঙ্গলবার কালো পোশাক পরে অবস্থানে বসেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গেই সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, "সোমবারের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার আমাকে থ্রেট করেছিলেন, টেবিল চাপড়ে বলেছি এভাবে চিৎকার করবেন না!"

হুঁশিয়ারির সুরে মমতা এও বলেন, "মনে রাখবেন, চেয়ার ইজ নট পার্মানেন্ট, পিপলস ইজ পার্মানেন্ট! আমরা এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না। ফাইনাল তালিকায় গোলমাল হলে ছেড়ে কথা বলব না।" সেই সঙ্গে মমতার দাবি, ২৬ এর ভোটে আরও বেশি আসনে জিতবে তৃণমূল। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এসআইআর এর নামে বাংলায় সুপার এমার্জেন্সি চলছে। কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বাংলায় গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। মানুষ বিচার চাইতে চাইতে ক্লান্ত।

তাঁর কথায়, এসআইআরের নামে যেভাবে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে, কার কাছে বিচার চাইবে—সেই প্রশ্নই উঠছে। তাঁর কথায়, “বারবার চিঠি দিয়েছি, কোনও উত্তর পাইনি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানা হচ্ছে না। তাই কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে দিল্লিতে এসেছিলাম। আর এখানেই দিল্লি পুলিশ দিয়ে আমাদের হেনস্থা করা হল।”

দিল্লিতে বসেই বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি বাংলার মানুষের জন্য এই দেশে আর কেউ না-ও লড়ে, আমি লড়ব। লড়ে যাব। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই অবিচারের বিচার চাইব।” 

কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে এক বন্ধনীতে রেখে তাঁর কটাক্ষ, “দিল্লির জমিদাররা ভোটারের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, ক্ষমতা থাকলে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করো। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্রের মতো কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় ভোটের নামে প্রহসন করতে দেব না।”

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তাড়াহুড়োর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কমিশন এআই-এর অপব্যবহার করছে। মাইক্রো অবজারভাররা আদালতের নির্দেশ মানছে না। ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপিন্সি’র নামে জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়ছে। মমতার প্রশ্ন, “দু’বছরের কাজ কেন দু’মাসে করা হবে? বিএলওদেরও হেনস্থা করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।  যাঁরা মারা গেলেন, তাঁদের দায় কে নেবে?”

সোমবার বঙ্গভবনে তল্লাশির নামে দিল্লি পুলিশ কী ভাবে হেনস্থা করেছে, তা নিয়ে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যেরা। অভিযোগ, সকাল থেকেই বঙ্গভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের অস্বাভাবিক তৎপরতা চোখে পড়ে। এলাকা পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ হয়ে যায়। বঙ্গভবন ঘিরে ফেলা হয় এবং ভিতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। মমতার অভিযোগ, “দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবনে ঢুকে ঘরে ঘরে সার্চ করছে। এখানে বাংলার মানুষ থাকছেন। এটা আমাদের ভবন, ওরা এটা করতে পারে না।” 

ওই মঞ্চ থেকেই ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বাংলার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে রাখা থেকে এজেন্সির অপব্যবহার নিয়েও সরব হন তিনি। মমতার অভিযোগ, ভোট এলেই বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। কেন বেছে বেছে বাংলাকেই বারে বারে টার্গেট করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন মমতা।

দেশজুড়ে বাঙালিদের উপর বাংলাদেশি সন্দেহে নিপীড়নের অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন রাখেন, সীমান্ত সুরক্ষা কার দায়িত্বে? এসআইআর এর কত অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ গেল, সেই প্রশ্নও তোলেন। বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কটাক্ষ, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। বাংলাদেশের অশান্তির ভিডিও দেখিয়ে বাংলার ছবি বলে চালানো হচ্ছে।”

বিএলওদের বকেয়া টাকা প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, কমিশনের ঘরে এক হাজার কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। কমিশন টাকা দিলেই বিএলওদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে রসিকতার সুরে মমতা বলেন, ২৬ এর ভোটে জিতে আবার আসব। তখন আপনাদের মিষ্টি খাওয়াব। তবে দিল্লির লাড্ডু নয়!


```