গুজরাত টিচার্স ফেডারেশনের সভাপতি অনিরুদ্ধ সিং দাবি করেছেন, মৃত বিএলও'দের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ওই রাজ্যে বিএলও'দের ৯০ শতাংশই স্কুল শিক্ষক।

শেষ আপডেট: 22 November 2025 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এসআইআর (SIR) নিয়ে গুজরাতেও বিএলও'দের (BLO) উপর শারীরিক ও মানসিক চাপের অভিযোগ উঠল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের (Amit Shah) রাজ্যে দু'জন বিএলও-র মৃত্যুতে (BLO Death) পরিবার এসআইআর (SIR) নিয়ে কাজের চাপের অভিযোগ তুলেছে।
ওই রাজ্যের কোদিনার জেলায় একজন সরকারি স্কুল শিক্ষক গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা (Suicide) করেছেন। তাঁর পরিবার থানায় অভিযোগ করেছে, স্কুলের কাজ সেরে এসআইআর-এর বিপুল চাপ সামাল দিতে পারছিলেন না ওই শিক্ষক। শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন উপরমহল থেকে লাগাতার কাজের চাপ আসায়।
গুজরাতের খেড়া জেলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন একটি সরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর-এর কাজ নিয়ে প্রবল চাপের মুখে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা যান। ওই শিক্ষকের পরিবারও থানায় অভিযোগ দায়ের করে বলেছে, এসআইআর এর চাপেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই শিক্ষক। দুই বিএলও-র মৃত্যু এবং থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য নির্বাচন দপ্তর। গুজরাতের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার বলেছেন তাঁরা অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন। দুই শিক্ষকের মৃত্যুতে রাজ্যের শিক্ষক সংগঠন এসআইআর বয়কটের ডাক দিয়েছে। তারা শিক্ষক সমাজকে বলেছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর কাজ করবেন না।
পশ্চিমবঙ্গে বেশ কয়েকজন বিএলও কাজের চাপ সামাল দিতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অসুস্থ হয়েও মারা গিয়েছেন কয়েকজন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে তাই চিঠি লিখে অবিলম্বে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন 'সব ঠিক আছে' বলে পাল্টা দাবি করেছে। কমিশনের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। তৃণমূল ছাড়াও সিপিএম এবং কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলও এসআইআর নিয়ে আপত্তি তুলেছে।
এতদিন মনে করা হচ্ছিল এসআইআর নিয়ে গুরুতর আপত্তি শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই হচ্ছে। গুজরাতের শিক্ষক সংগঠনের সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত বিচলিত। গুজরাত টিচার্স ফেডারেশনের সভাপতি অনিরুদ্ধ সিং দাবি করেছেন, মৃত বিএলও'দের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ওই রাজ্যে বিএলও'দের ৯০ শতাংশই স্কুল শিক্ষক।
দুই বিএলও-র মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, আন্দোলনের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মেসেজ ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিএলওদের একটি গ্রুপে উপরমহল থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনে রাত জেগে কাজ তুলে দিতে হবে। জবাবে একজন বিএলও লেখেন আগের দিন তিনি ভোর চারটে পর্যন্ত জেগে ছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি।
কোদিনার জেলায় আত্মঘাতী শিক্ষক অরবিন্দভাই মুলজীবভাই সুইসাইড নোটে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে লিখেছেন, গত কয়েকদিন ধরে এসআইআর-এর কাজ নিয়ে আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আর পেরে উঠছি না। তাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলাম। হার্ট অ্যাটাকে মৃত প্রিন্সিপালের নাম রমেশভাই পারমার। তাঁর মেয়ে শিল্পা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, বাবা গভীর রাত পর্যন্ত অনলাইনে এসআইআর-এর কাজ করেছেন। ভোররাতে ঘুমোতে গিয়েছিলেন। আর ওঠেননি। ঘুমের মধ্যেই মারা গিয়েছেন তিনি।