আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যে বিএলওরা অসুস্থ, অক্ষম বা ব্যক্তিগত কারণে অব্যাহতি চান, তাঁদের আবেদন তৎক্ষণাৎ মঞ্জুর করতে হবে এবং পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়োগ করতে হবে।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 4 December 2025 16:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বে থাকা বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) কখনও অসুস্থতায়, কখনও 'আত্মহত্যায়' মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর (CJI Surya Kant) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, বিএলওদের (BLO Death) কাজের পরিবেশ ও মানসিক চাপের জন্য সম্পূর্ণ দায় রাজ্য সরকারেরই (State Government)।
বিচারপতি মন্তব্য করেন, “যেখানে ১০ হাজার কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, সেখানে চাইলে ৩০ হাজারও মোতায়েন করা সম্ভব।” আদালতের কথায়— কর্মীদের ওপর চাপ এতটাই বেড়েছে যে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে, অথচ রাজ্য সরকারগুলি সমান ভাবে উদাসীন।
অসুস্থ বা অক্ষম বিএলওদের ক্ষেত্রে ছুটি দিন, নির্দেশ আদালতের
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যে বিএলওরা অসুস্থ, অক্ষম বা ব্যক্তিগত কারণে অব্যাহতি চান, তাঁদের আবেদন তৎক্ষণাৎ মঞ্জুর করতে হবে এবং পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়োগ করতে হবে। তা না হলে ওই কর্মী সরাসরি আদালতে আসতে পারবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছে বেঞ্চ।
এই মামলার সূত্রপাত তামিল অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে–এর আবেদনে। আগামী বছর তাদের নির্বাচনী অভিষেকের আগে, দলটির দাবি, এ পর্যন্ত ৩৫–৪০ জন বিএলও-র মৃত্যু ঘটেছে। টিভিকে অভিযোগ করেছে, নির্বাচন কমিশন তাঁদের উপর জেলের ভয় দেখিয়ে জোর করে কাজ করাচ্ছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে প্রতিনিধিত্ব আইন, ধারা ৩২— যেখানে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা প্রস্তুতি বা সংশোধনের দায়িত্বে থাকা কর্মী যদি কাজ ফাঁকি দেন, তাহলে দু’ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। টিভিকে-র অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশেই নাকি ৫০টিরও বেশি মামলা করেছে প্রশাসন।
দলের আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণনের দাবি, “কর্মীরা না কাজ ছাড়তে পারছেন, না ইস্তফা দিতে পারছেন। কেউ নিজের বিয়ের জন্য ছুটি চান, তাঁকেও দেওয়া হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করছেন অনেকেই। এটা মানবিকতারও প্রশ্ন।”
টিভিকে দাবি করেছিল, এই মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু প্রধান বিচারপতি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, বিএলওরা রাজ্য সরকারী কর্মচারী, ফলে তাঁদের মৃত্যুর দায় কমিশনের নয়।
ইসিরও পাল্টা দাবি, টিভিকে-র অভিযোগ “সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন”। কমিশনের বক্তব্য, এই পর্যায়ে ভোটার তালিকা সংশোধন আটকে দিলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর বড়সড় প্রভাব পড়বে।
তামিলনাড়ু ও কেরলের পাশাপাশি গুজরাত ও উত্তরপ্রদেশেও আগামী বছর ভোট। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ভোট ২০২৬-এ। সেখানে ইতিমধ্যেই চলছে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন। একাধিক মৃত্যু ও অভিযোগ সামনে আসায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলেও।
বিরোধীরা পুরো বিষয়টিকে “আরোপিত অত্যাচার” বলে আক্রমণ শানিয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) স্পষ্ট বক্তব্য, “এই অপরিসীম কাজের চাপ মানবক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কমিশন কর্মীদের ভয় দেখিয়ে কাজ করাচ্ছে।”