মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। বিএলও-দের নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকেও দায় নিতে বলল সর্বোচ্চ আদালত।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 December 2025 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত মামলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। বিএলও-দের নিরাপত্তা (BLO Security) ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Govt) এবং নির্বাচন কমিশনকেও (ECI) দায় নিতে বলল সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলেছে, শুধু রাজ্য (State Govt) নয়, বিএলও-দের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব কেন্দ্র এবং কমিশনের ওপরও বর্তায়। তবে রাজ্যকে সহযোগিতা করতে হবে। সহযোগিতা না করলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) সাহায্য নেওয়া হবে। এদিকে বিএলও-দের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলে, প্রয়োজনে বিএলও-র সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক, তবে বিএলও-দের ওপর অতিরিক্ত চাপ যেন না আসে, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে কমিশনকে।
এদিন মামলার শুনানিতে বিএলও-দের হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে। আইনজীবী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) বিএলও-দের ভয় দেখানো হচ্ছে। এসআইআরের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালত জানতে চায় কত জনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। কারণ তথ্য বলছে, কমিশনের (ECI) কাছে বিএলও-দের হুমকি দেওয়ার মাত্র একটি অভিযোগ এসেছে। এখনও পর্যন্ত একটিই এফআইআর হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই নিরাপত্তা ইস্যুতে কমিশন ও কেন্দ্রকেও দায় নিয়ে বলেছে আদালত।
কাজের অতিরিক্ত চাপের ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বক্তব্য, কারও কাজ করতে অসুবিধা থাকলে নতুন বিএলও নিয়োগ করতে হবে। কমিশনকে নির্দেশ, যে সব বিএলও-র কাজ করতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ করুন। গোটা বিষয় নিয়ে কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ করতেও বলেছে শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। বিএলও-দেরও জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যায় পড়লে বিএলও-রা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে (CEO Office) অভিযোগ জানাতে পারবেন।
এর আগে ৪ ডিসেম্বর একই বেঞ্চ জানিয়েছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যদি ১০ হাজার বিএলও (BLO) নিয়োগ করা যায়, তবে আরও ৩০ হাজার বাড়ানো সম্ভব। এতে কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তামিল অভিনেতা বিজয়ের (Vijay) রাজনৈতিক দল টিভিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সেই পর্যবেক্ষণ এসেছিল। দলটির দাবি ছিল, তামিলনাড়ুতে ৩৫–৪০ জন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে এবং রাজ্যকে এর দায় নিতে হবে। কমিশন তখন অভিযোগটিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে জানায়। পরে শীর্ষ আদালত পরিষ্কার করে দেয় - এই নির্দেশ কেবল তামিলনাড়ুর জন্য নয়, সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না; বিএলও-দের নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করেই এগোতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।