অনেকেই মনে করছেন, এই বৈঠক আসন্ন মন্ত্রিসভা রদবদলের ইঙ্গিত হতে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 21:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো:কর্নাটকের (Karnataka) মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার (CM Siddaramaiah) আগামী ১৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভা-সদস্যদের (Cabinet Members) সঙ্গে নৈশভোজের (Dinner Diplomacy) আয়োজন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই বৈঠক আসন্ন মন্ত্রিসভা রদবদলের ইঙ্গিত হতে পারে।
যদিও আপাতত কংগ্রেসের (Congress) তরফে জানানো হয়েছে, বিহার বিধানসভা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্নাটকে কোনও রদবদল হচ্ছে না। দলীয় সূত্রের খবর, নভেম্বর মাসে বিহার ভোট মিটলেই হাইকম্যান্ড রাজ্যের মন্ত্রিসভা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
দলের অন্দরমহলে অবশ্য অন্য হিসেব চলছে। সিদ্দারামাইয়ার শিবির মনে করছে, রদবদলের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছেন। এক নেতা বলেন, “যদি রদবদল হয় এবং সিদ্দারামাইয়া তাতে নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে স্পষ্ট বার্তা যাবে যে দল তিনিই চালাচ্ছেন।”
অন্যদিকে, উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার (DK Shivakumar)-এর অনুগামীরা রদবদলের বদলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। তবে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড চাইছে, এমন কোনও ইস্যু যেন প্রকাশ্যে না আসে যা ভোটের আগে দলের ঐক্যের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।
১৩ অক্টোবরের ওই ডিনার মিটিং নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। সরকারি ভাবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “এটি শুধুই সৌজন্য বৈঠক, মন্ত্রীরা যাতে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট থাকেন, সেটাই উদ্দেশ্য।” কিন্তু দলের অন্দরের একাধিক সূত্র বলছে, এই বৈঠকই রদবদলের আগে মতামত যাচাইয়ের মঞ্চ হতে পারে।
ডি কে শিবকুমার প্রকাশ্যে সব সিদ্ধান্তই “হাইকম্যান্ডের উপর নির্ভর করছে” বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে আন্দোলন জারি রয়েছে। দলের বিধায়ক ইকবাল হোসেন সরাসরি বলেন, “ডি কে শিবকুমারই হবেন আগামী মুখ্যমন্ত্রী।”
আবার গৃহমন্ত্রী জি পরমেশ্বর (G Parameshwara) এবং মন্ত্রী সতীশ জারকিহোলি (Satish Jarkiholi) বিষয়টি নিয়ে সংযমী। তাঁরা প্রকাশ্যে বলেছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন বা রদবদল নিয়ে “অযথা জল্পনা বন্ধ হোক।” জারকিহোলির মন্তব্য, “হাইকম্যান্ডকেই এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে বলতেই হবে। নইলে এই জল্পনায় প্রশাসন ও দল, দু’দিকেই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।”
পরমেশ্বরও তাঁর বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “প্রতিদিন দলের নানা নেতা ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করছেন। বিষয়টা যত তাড়াতাড়ি মেটানো যায়, ততই ভাল।”
মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও ডেপুটি সিএম শিবকুমারের মধ্যে ‘দুই বছরের রোটেশন চুক্তি’ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের মে মাসেই, যখন কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরে। সরকার গঠনের সময়ই বলা হয়েছিল, দু’জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হাইকম্যান্ড বিশেষ সমঝোতা করেছে।
এখন, সরকারের দুই বছর পূর্তি আসন্ন (নভেম্বর)। এই সময়েই কিছু কংগ্রেস বিধায়ক যেমন এইচ.ডি. রঙ্গনাথ ও এল.আর. শিবরামে গৌড়া দাবি করেছেন, “নভেম্বরেই মুখ্যমন্ত্রী হবেন শিবকুমার।” তবে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি পুরো পাঁচ বছরের জন্যই মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। তবে এও বলে রেখেছেন, হাইকম্যান্ড যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই মেনে নেবেন তিনি।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এখন প্রধান লক্ষ্য বিহার নির্বাচন। কংগ্রেস নেতৃত্ব চাইছে, কর্নাটকের কোনও অস্থিরতা যেন সেই প্রচারে প্রভাব না ফেলে। তাই আপাতত ডিনার-ডিপ্লোমেসি চললেও, বড় সিদ্ধান্ত স্থগিতই রাখা হচ্ছে।