সূত্রের খবর, জাহাজটি এখন ভারতীয় নৌসেনার নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই রয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দু’দিনের মধ্যেই জাহাজটি ভারতের কোনও বন্দরে পৌঁছবে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে মুম্বই বা কাণ্ডলা বন্দরের নাম শোনা যাচ্ছে।

শেষ আপডেট: 14 March 2026 13:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় চলা তীব্র উত্তেজনার আবহে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, ভারতের জন্য স্বস্তির খবরও বটে। ভারতের পতাকাবাহী শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার প্রথম এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’ (Shivalik)-এর পর ভারতের দ্বিতীয় ট্যাঙ্কার ‘নন্দা দেবী’ (Nanda Devi)-ও সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে খোলা সমুদ্রে প্রবেশ করেছে (India LPG tank crosses Strait of Hormuz)। সরকারি সূত্রে এই খবর জানিয়েছে CNN-News18।
সূত্রের খবর, জাহাজটি এখন ভারতীয় নৌসেনার নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই রয়েছে। যাত্রার পরবর্তী অংশে নৌসেনাই এটিকে এসকর্ট করে ভারতে পৌঁছে দেবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দু’দিনের মধ্যেই জাহাজটি ভারতের কোনও বন্দরে পৌঁছবে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে মুম্বই বা কাণ্ডলা বন্দরের নাম শোনা যাচ্ছে।
সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের দাবি, ‘নন্দা দেবী’ জাহাজটিতে রয়েছে ৪৬ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG)। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল আংশিক ব্যাহত হওয়ায় এই কার্গোকে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে CNN-News18-ই জানিয়েছিল, ভারতের প্রথম এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিরাপদ পথ নিশ্চিত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী পেরোনোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। সেই জাহাজটিও ইতিমধ্যে প্রণালী ছেড়ে খোলা সমুদ্রে পৌঁছে গেছে এবং ভারতীয় নৌসেনার নজরদারিতেই নিরাপদে এগিয়ে চলেছে।
সূত্রের বক্তব্য, এই দুই জাহাজের গতিবিধির ওপর ভারতীয় নৌসেনার নজরদারি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে চলছে। কৌশলগত দিক থেকে সংবেদনশীল এই সমুদ্রপথে যাতে কোনও ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই নৌসেনার বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে।
সরকারি মহল আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, কূটনৈতিক আলোচনার পর দু'টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি পাবে। এখন ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’—দুই জাহাজই প্রণালী ছেড়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসায় সরকার আশাবাদী যে একই ধরনের কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে ভবিষ্যতেও অন্য জাহাজগুলিকেও নির্বিঘ্নে এই পথ পার করানো সম্ভব হবে।
ভারতের জন্য এই অগ্রগতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দেশের এলপিজি চাহিদার বড় অংশই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে এই ধরনের জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি সূত্রের মতে, ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’-র নিরাপদে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর পেরিয়ে এসেছে, ফলে ভারতীয় জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখার জন্য কার্যকর একটি ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ভারত ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হওয়ার পরেই এই জাহাজ দুটির নিরাপদ যাত্রাপথ নিশ্চিত করা যায়।
কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার
হরমুজ প্রণালীর দু’পাশে বর্তমানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারতের পতাকাবাহী দুই ডজনেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ। তাদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে গত কয়েক দিন ধরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি।
এই প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আরব দুনিয়ার সংকট শুরুর পর থেকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী ব্বাস আরাঘচির সঙ্গে চার দফা ফোনালাপ করেছেন। ফেব্রুয়ারি ২৮, মার্চ ৫, মার্চ ১০ এবং মার্চ ১২ - এই চারটি আলাদা সময়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও ফোনে আলোচনা করেন।
আরও একটি ভারতীয় জাহাজ রওনা
এদিকে ভারতের পতাকাবাহী আরেকটি তেলবাহী জাহাজ ‘জগপ্রকাশ’ও হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিক থেকে যাত্রা শুরু করেছে। এই জাহাজটি ওমান থেকে আফ্রিকার উদ্দেশে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি বহন করছে বলে একটি সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন শিপিং মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় বিস্তৃত অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক বিভিন্ন বাণিজ্যিক, বন্দর এবং অফশোর জাহাজে কর্মরত রয়েছেন। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।