ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি শুক্রবার ইঙ্গিত দিলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী
শেষ আপডেট: 13 March 2026 23:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় উত্তেজনার আবহে ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতগামী দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী ট্যাঙ্কারকে যাওয়ার অনুমতি (Strait of Hormuz Indian ships safe passage) দিয়েছে ইরান, শুক্রবার জানিয়েছে রয়টার্স।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়, যখন ওই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে নজরদারি ও উত্তেজনা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি শুক্রবারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হতে পারে। সম্প্রতি ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য (Iran India diplomatic talks Hormuz) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
‘দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যেই দেখতে পাবেন’
শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত ফাথালিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ভারতীয় জাহাজ কি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি পাবে? জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ। আপনারা দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই সেটা দেখতে পাবেন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, ইরান এবং ভারত বন্ধু। আমাদের স্বার্থও অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি। খুব শিগগিরই আপনারা ভাল খবর আশা করতে পারেন।”
ভারতের তৎপরতা
এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ভারত সরকার হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক স্তরে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের রুট এই হরমুজ প্রণালী।
ভারতের শিপিং মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিম দিকে বর্তমানে রয়েছে ২৪টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, যেখানে ৬৭৭ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। অন্যদিকে প্রণালীর পূর্ব দিকে রয়েছে ৪টি জাহাজ, যাতে রয়েছেন ১০১ জন ভারতীয় নাবিক। ফলে এই রুটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত
এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বাড়ানো হয়েছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী ও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে তিনবার কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, “শেষবারের আলোচনায় মূলত সমুদ্রপথে জাহাজের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলা এখনই সময়ের আগে হয়ে যাবে।”
জয়শঙ্কর–আরাঘচির ফোনালাপ
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফোনে কথা বলেন তাঁর ইরানি সমকক্ষ আরাঘচির সঙ্গে। পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান সংকট শুরু হওয়ার পর এটি ছিল তাঁদের চতুর্থ ফোনালাপ।
মোদী–পেজেশকিয়ান কথোপকথন
এদিকে বৃহস্পতিবারই ফোনে কথা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে। আলোচনায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মোদীকে বিস্তারিত জানান এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেন, সব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে এবং কূটনৈতিক পথে সমাধান হওয়া উচিত।
এছাড়া তিনি পশ্চিম এশিয়ায় থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণের নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের গুরুত্বও তুলে ধরেন। দুই দেশের শীর্ষ নেতাই ভবিষ্যতেও যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে।