দুই জাহাজের নিরাপদ যাত্রা ভারতের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে।

গুজরাতে নোঙর করল এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’
শেষ আপডেট: 16 March 2026 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের জ্বালানি সঙ্কটের মাঝেই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলল। সোমবার গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে (Mundra Port LPG Tanker) এসে পৌঁছল ভারতের এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’ (Shivalik LPG Tanker)। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে দু'দিন আগেই ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এই ট্যাঙ্কারটি (India LPG Supply Strait of Hormuz)।
শুধু শিবালিক নয়, আরেকটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘নন্দা দেবী’ও হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে এসেছে। এই জাহাজটি মঙ্গলবারই মুম্বই বন্দরে পৌঁছতে পারে বলে জানা গেছে।
দুই জাহাজের নিরাপদ যাত্রা ভারতের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় স্বস্তির খবর বলেই মনে করা হচ্ছে।
'শিবালিক' গত মাসে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির পর হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে পৌঁছনো দ্বিতীয় ট্যাঙ্কার, 'নন্দা দেবী' এসে পৌঁছলে তা হবে তৃতীয়। এর আগে প্রথম যে জাহাজটি ভারতে পৌঁছেছিল, সেটি ছিল সৌদি আরব থেকে আসা একটি লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার।
কূটনৈতিক তৎপরতায় সম্ভব নিরাপদ যাত্রা
ভারতীয় ট্যাঙ্কারগুলির নিরাপদ যাত্রার পিছনে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক তৎপরতারও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে চার দফা আলোচনা করেন। এছাড়া গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে।
এই কূটনৈতিক যোগাযোগের পরই জাহাজগুলির নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত হয় বলে জানা গেছে।
বিপুল পরিমাণ গ্যাস নিয়ে আসছে জাহাজ দুটি
শিবালিক এবং নন্দা দেবী, দুটি ট্যাঙ্কারেই রয়েছে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত গ্যাস। প্রতিটি জাহাজেই প্রায় ৯২,৭০০ মেট্রিক টন গ্যাস রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও বহু ভারতীয় জাহাজ আটকে
হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে এখনও দুই ডজনেরও বেশি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে রয়েছে। তাদের নিরাপদে পার করানোর জন্যও চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত।
শিপিং মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা সাংবাদিকদের জানান, ‘জগ প্রকাশ’ নামে আরেকটি ভারতীয় ট্যাঙ্কারও যাত্রা শুরু করেছে। এই জাহাজটি ওমান থেকে আফ্রিকার দিকে পেট্রোল বহন করে নিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিক থেকে যাত্রা শুরু করেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?
হরমুজ প্রণালী কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ইরান অনানুষ্ঠানিকভাবে এই পথে অবরোধ তৈরি করার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর ফলে এই সরু জলপথ দিয়ে ক্রুড অয়েলের স্বাভাবিক প্রবাহে বড়সড় বিঘ্ন ঘটে।
সাধারণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস বাণিজ্য এই পথ দিয়েই হয়।
যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে
ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ করে। তার মধ্যে হরমুজ প্রণালী এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলিকেও লক্ষ্য করা হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথে জ্বালানি জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তাও দু’বার।
গত সপ্তাহেই পরিস্থিতির অস্থিরতা নতুন করে সামনে আসে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি বন্দর থেকে ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা হয়। জাহাজটি গুজরাটের কাণ্ডলা বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।