পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মাঝেও ভারতের জন্য বড় স্বস্তি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে দুই ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুমতি দিল ইরান।

তেল ট্যাঙ্কার
শেষ আপডেট: 12 March 2026 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের (Global Energy Crisis) আবহে ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর। কূটনৈতিক আলোচনার পর দু'টি ভারতীয় তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিল ইরান (Iran)। সূত্রের খবর, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi)-র মধ্যে আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) চলমান উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক যাতায়াত (Maritime Traffic) মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। বিশ্বের তেল পরিবহণের (Global Oil Shipments) বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। ফলে পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে (Global Energy Market) উদ্বেগ বাড়ছিল ক্রমাগত।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার, ১১ মার্চ, ভারতের দিকে প্রথম তেলবাহী জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে এসেছে। লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘শেনলং সুয়েজম্যাক্স’ (Shenlong Suezmax), যার ক্যাপ্টেন একজন ভারতীয় নাবিক (Indian Mariner), সফলভাবে বিপজ্জনক এই জলপথ অতিক্রম করে মুম্বই বন্দরে (Mumbai Port) নোঙর করেন।
জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে সৌদি আরবের (Saudi Arabia) রাস তানুরা বন্দর (Ras Tanura Port) থেকে ১ মার্চ ১,৩৫,৩৩৫ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বোঝাই করা হয়েছিল। এরপর ৮ মার্চ হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় জাহাজটি কিছু সময়ের জন্য ট্র্যাকিং রাডার (Tracking Radar) থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। পরদিন, ৯ মার্চ আবার সেটি শনাক্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলটি সম্ভবত নজর এড়ানোর জন্যই নেওয়া হয়। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজকে (Merchant Ships) লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং চীনগামী নয় এমন তেল পরিবহণে (Non-China-bound Oil Transit) বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ (Global Crude Flow) কার্যত ব্যাহত।
হরমুজ প্রণালী মূলত পারস্য উপসাগর (Persian Gulf) এবং ওমান উপসাগরকে (Gulf of Oman) যুক্ত করে। অত্যন্ত সরু হলেও এই সামুদ্রিক পথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ‘চোকপয়েন্ট’ (Energy Chokepoint) হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (Liquefied Natural Gas) রফতানি এই পথ দিয়েই হয়।
ফলে এই প্রণালীতে দীর্ঘদিন বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।