বৃহস্পতিবার দুপুরে কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন লোকসভা এবং কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা-সহ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কারচুপি করেছে।

রাহুলের অভিযোগকে সমর্থন শরদ পাওয়ারের
শেষ আপডেট: 9 August 2025 23:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্র নির্বাচনে ভোটের আগেই ১৬০টি আসনে জেতার প্রস্তাব পেয়েছিলেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার (Sharad Pawar)। নির্বাচন কমিশন (ECI) ও বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে রাহুলের (Rahul Gandhi) ফেলা 'অ্যাটম' বোমার রেশ কাটতে না কাটতেই চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গ টেনে আনলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন লোকসভা এবং কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা-সহ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কারচুপি করেছে।
রাহুলের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকরা তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে হলফনামা দিয়ে অভিযোগ জমা দিতে বলেন। পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনও তাঁকে সতর্ক করে চিঠি পাঠায় বলে জানা যায়।
শনিবার এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার রাহুলের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, “এই অভিযোগের যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। বিরোধী দলগুলো এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে জবাব চায়।” এখানেই থামেননি প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে ২৮৮টির মধ্যে ১৬০টি আসনে জেতানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ও রাহুল গান্ধী দু’জনেই বিষয়টিতে জড়াতে রাজি হননি।
শরদ পাওয়ারের কথায়, “মহারাষ্ট্রে ভোটের আগে দু’জন আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন ১৬০ আসনে নিশ্চিত জয় পাইয়ে দিতে পারবে। আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিইনি এবং রাহুল গান্ধীকেও জানাই। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল এই ধরনের প্রস্তাবে যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না।”
নাগপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও বলেন, "রাহুলের দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপস্থিত ছিলেন। রাহুল গান্ধী অনেক পরিশ্রম করে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেছেন।" 'একটি বাড়িতে একজন থাকলেও ভোটার তালিকায় ৪০ জনের নাম আছে, এমন উদাহরণ পাওয়া গিয়েছে', অভিযোগ প্রবীণ এনসিপি নেতার। তাঁর দাবি, এখন কমিশন সম্ভবত বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী কর্নাটকের বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্রের মহাদেবপুরা বিধানসভা আসনের উদাহরণ দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সেখানে এক লক্ষেরও বেশি ভোট ‘চুরি’ হয়েছে। কংগ্রেস পেয়েছিল ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ভোট, বিজেপি ৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ভোট- ফারাক ছিল প্রায় ৩২ হাজার। রাহুলের দাবি, মহাদেবপুরায় বিজেপিকে জেতানোর জন্য প্রায় ১ লক্ষ ২৫০টি ভুয়ো ভোটার তৈরি করা হয়েছিল। যদিও নির্বাচন কমিশন কংগ্রেস নেতার এই দাবি নস্যাৎ করেছে।