স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের পরিচিতই ছিলেন নির্যাতিতা। ফলে প্রথমে সন্দেহ করেননি তিনি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 July 2025 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশায় ফের এক মহিলাকে গণধর্ষণের উঠল অভিযোগ। গত ২০ দিনের মধ্যে এই নিয়ে সপ্তম ঘটনা। একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়েছে উদ্বেগ, প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে।
মঙ্গলবার অর্থাৎ গতকাল এক মহিলা ছাগল চরাতে গিয়েছিলেন ওড়িশার বালুখাই জঙ্গলের কাছে। সেখানে তাঁকে ভজমান ভুঁইয়া ও সনন্দ পিহু নামের দু'জন চেপে ধরেন বলে অভিযোগ। । তারপর জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে নির্যাতিতা নিজেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ব্যারি থানার পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অনসূমালা দাস জানিয়েছেন, 'নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধরেছি। ঘটনাটি বালুমারা জঙ্গলের কাছে ঘটেছে।'
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের পরিচিতই ছিলেন নির্যাতিতা। ফলে প্রথমে সন্দেহ করেননি তিনি। কিন্তু পরে সব বুঝতে পারেলও নিজেকে বাঁচাতে পারেননি।
গত ১৫ জুনের পর থেকে লাগাতার ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা হয়েছে ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্তে। ১৫ জুন, গোপালপুর সমুদ্র সৈকতে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়। গ্রেফতার হন ১০ জন। ১৮ জুন, কেঁওঝড় জেলায় ১৭ বছরের এক কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। পরিবারের দাবি, ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ১৯ জুন, ময়ূরভঞ্জ জেলায় চার যুবকের বিরুদ্ধে ৩১ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ২৫ জুন, গঞ্জামে এক ক্লিনিকের মালিকের (ডাক্তার হিসেবে নিজের পরিচয় দিতেন) বিরুদ্ধে ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ২৮ জুন, গঞ্জামেই ফের, সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাঁর এক আত্মীয়র বিরুদ্ধে। অভিযুক্তর বয়স মাত্র ২২, ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এইসব ঘটনার পরও প্রশাসনের তরফে কোনও জোরদার বার্তা এখনও পর্যন্ত চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করছে সাধারণ মানুষ। রাজ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান এই যৌন হেনস্থার ঘটনায় উদ্বেগে মহিলা ও শিশুকল্যাণ সংস্থাগুলিও। কড়া শাস্তি ও দ্রুত বিচার না হলে এই সন্ত্রাস থামবে না বলেই মনে করছেন তাঁরা।