সেন্ট্রাল মুম্বইয়ের ওই স্কুলটি দেশের সেরা পাঁচটি স্কুলের অন্যতম।

পকসোর বিভিন্ন ধারায় শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
শেষ আপডেট: 2 July 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছরের বেশি সময় ধরে স্কুলছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে মুম্বইয়ের দাদর থানার পুলিশ। সেন্ট্রাল মুম্বইয়ের ওই স্কুলটি দেশের সেরা পাঁচটি স্কুলের অন্যতম। অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা তাঁর ছাত্রকে পাঁচতারা হোটেল সহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে যৌনকর্মে লিপ্ত হতেন। অভিযুক্ত মহিলা ওই ছাত্রকে হতাশা দূর করার ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করতেন বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট সহ পকসোর বিভিন্ন ধারায় শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এইসব ধারাতেই তাঁকে গ্রেফতার করে দাদর পুলিশের হেফাজতে চালান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর ওই ছাত্রটি বাড়ির লোকের কাছে বিষয়টি জানায়। শিক্ষিকার এক কাজের লোক ছাত্রটির বাড়িতে এসেছিলেন, তাকে মালকিনের সঙ্গে দেখা করতে বলতে। তখনই বাবা-মাকে গোটা ঘটনা খুলে জানায় নির্যাতিত ছাত্র।
৩৮ বছরের ওই শিক্ষিকা বিবাহিতা এবং সন্তানাদি রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মানসিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর নাম করে শিক্ষিকা নাবালক ছাত্রটিকে বিভিন্ন সময় বিলাসবহুল হোটেলে নিয়ে যেতেন, যার মধ্যে পাঁচতারা হোটেলও রয়েছে। সেখানে গিয়ে ছাত্রকে মদ্যপান করাতেন অথবা উদ্বেগ দূর করার ওষুধ খাওয়াতেন। নির্যাতিত নাবালকের বয়স বর্তমানে ১৭ বছর।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে ছাত্রটির প্রথম স্কুলের এক্সট্রা ক্যারিকুলার অ্যাক্টিভিটি ক্লাসে পরিচয় হয়। তিনি একটি ডান্স গ্রুপ পরিচালনা করতেন। সময় যত এগতে থাকে ততই অভিযুক্ত ওই নাবালকের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে থাকেন। তাকে সুযোগ পেলেই আড়ালে-আবডালে নিয়ে যেতেন। তাঁর কথামতোই নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ছাত্রটিকে নিজের সেডান গাড়িতে করে তুলে নিতেন। গাড়িটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। গাড়িতে করে শিক্ষিকা ছাত্রটিকে প্রায়শই পাঁচতারা বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে উঠতেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হোটেলে গিয়েই তিনি নাবালককে মদ খাওয়াতেন সঙ্গে মিশিয়ে দিতেন হতাশা কাটানোর ওষুধ, যাতে ঘোরের মতো আচ্ছন্নতা তৈরি হয়। এ বছরের গোড়ার দিকে ছেলেটি তার খুব কাছের এক বান্ধবীকে বলেছিল। ওই বান্ধবীই তাকে স্কুলের কাউন্সেলরের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেয়। এইভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রটি জানিয়েছে, সে মাসের পর মাস চুপ করে ছিল। ভেবেছিল শিক্ষিকা হয়তো এরপর তাকে হেনস্তা করা বন্ধ করবেন। কিন্তু, পরীক্ষার কথা ভেবে সে মুখ খোলেনি। ওই শিক্ষিকা ও তাঁর এক বান্ধবীকে পুলিশ গ্রেফতার করে গত সপ্তাহে এবং আদালতে তুলে হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ এখন ওই শিক্ষিকার অন্য ছাত্রদের সঙ্গে পূর্বেকার সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে। তাঁর মোবাইল, কম্পিউটারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নামীদামি ওই স্কুলের তরফে শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তদন্তকাজে সহযোগিতার সব রকমের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।