সীমিত অস্ত্র-বারুদ ক্ষমতার মধ্যেও সীমান্তের ওপারে ঘাপটি মেরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া পাক সেনাকে পালাতে বাধ্য করেছে বিএসএফের প্রমীলা বাহিনী।

নেহা ভাণ্ডারী, মলকিত কৌর ও স্বপ্না রথ। ছবি- সংবাদ সংস্থার সৌজন্যে
শেষ আপডেট: 31 May 2025 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন জেপি দত্তের ১৯৯৭ সালের ‘বর্ডার’এর চিত্রনাট্য। তফাত শুধু বাস্তবে। শত্রুপক্ষ থেকে বৃষ্টির মতো গোলাবারুদ ছুটে এলেও শিরদাঁড়া সোজা রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়া। শুধু তাই নয়, সীমিত অস্ত্র-বারুদ ক্ষমতার মধ্যেও সীমান্তের ওপারে ঘাপটি মেরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া পাক সেনাকে পালাতে বাধ্য করেছে বিএসএফের প্রমীলা বাহিনী।
সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরায় থাকা এই মহিলা ব্রিগেডকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফিরে আসার বার্তা পাঠিয়েছিল হেড কোয়ার্টার থেকে। কিন্তু, বঙ্গতনয়া স্বপ্না রথ ও শম্পা বসাকের ওই দলের নেতৃত্বে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্ট নেহা ভাণ্ডারী সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এবং টানা তিনদিন, তিন রাত লাগাতার যুদ্ধ চালিয়ে শত্রুপক্ষের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে তাদের লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেন।
এই সপ্তকন্যার বীরত্বের কাহিনি নিয়ে মুম্বইয়ের চিত্র নির্মাতারা হয়তো পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি কিংবা ওয়েব সিরিজ করার কথা ভাবতে শুরু করেছেন। জম্মু-কাশ্মীরের আখনুর সেক্টরে তাঁদের এই পাকিস্তান বিরোধী যুদ্ধ কাজে যোগ দেওয়ার পর প্রথম অভিজ্ঞতা। মাত্র বছর ২-৩ আগে সীমান্ত প্রহরায় যোগ দেওয়া এই বীরাঙ্গনাদের যুদ্ধের কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না এর আগে। তা সত্ত্বেও মাতৃভূমি রক্ষার এই কাজের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তাঁদের কেউ। পুরোদস্তুর লড়ে গিয়ে পিছু হটতে বাধ্য করেছেন পাক সেনাকে।
দলনেত্রী নেহা ভাণ্ডারীই মাত্র তিন বছর আগে বিএসএফে যোগ দেন। আর এরকম একটি যুদ্ধে নেমে তিনি দেশের প্রথম মহিলা অফিসার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন, যা ভারতীয় সেনাও করে দেখাতে পারেনি। অপারেশন সিঁদুরের পরেই পাকিস্তানি হামলা শুরু হতে নেহা ভাণ্ডারীকে বলা হয়েছিল তাঁর টিম নিয়ে সরে আসতে। সেখানে পুরুষদের টিম পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
কিন্তু নেহার রক্তে রয়েছে দেশের জন্য সেবা করার হিমোগ্লোবিন। তাঁর ঠাকুরদা ছিলেন প্রাক্তন সেনা। বাবা-মা দুজনেই সিআরপিএফ জওয়ান। তাই নেহা জানেন, কাকে বলে দায়িত্ব-কর্তব্য। তিনি বলেন, আমরা পিছু সরব না। এখানে থেকেই লড়ব। সংবাদ সংস্থাকে তিনি জানান, আখনুর-পরগ্বোয়াল এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের সীমান্ত ছাউনি থেকে আমরা মাত্র ১৫০ মিটার দূরে ছিলাম। তাই দেশের জন্য লড়াই করার এই সুযোগ আমরা হাতছাড়া করতে চাইনি, বলেন নেহা।
তিনি আরও বলেন, ওপারের সিয়ালকোট এলাকার তিনটি পাক ছাউনি আমার নজরদারি মধ্যে পড়ে। আমরা ওই তিনটিকেই আমাদের কাছে যা অস্ত্র-বারুদ ছিল তা দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছি। ওরা আমাদের হামলায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। নেহা ছাড়াও আরও যে ছজন ছিলেন, তাঁদের মধ্যে চারজন ২০২৩ সালে বিএসএফে যোগ দিয়েছেন। আর বাকি দুজন অন্তত দু-দশকের কাজ করার অভিজ্ঞ। পাঞ্জাবের মনজিৎ কৌর ও মলকিত কৌর দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলেছেন। একজন ছিলেন অবজার্ভেশন পোস্টে, অন্যজন ছিলেন বাঙ্কার রক্ষায়। বাংলার স্বপ্না রথ ও শম্পা বসাক, ঝাড়খণ্ডের সুমি জেস এবং ওড়িশার জ্যোতি বানিয়াঁকে নিয়ে নেহা ভাণ্ডারী দেখিয়ে দিয়েছেন প্রমীলা বাহিনীর ক্ষমতা।