চিরকুটে বর্মা নিজের জীবনের কাজের কথাও উল্লেখ করে গেছেন। জানিয়ে গেছেন, ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের সময় শতাধিক মৃতদেহের সৎকার করেছেন তিনি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 November 2025 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ভোপালের (Madhya Pradesh, Bhopal) জাহাঙ্গিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা শিবকুমার বর্মা (Shivkumar Verma), যিনি সিনিয়র অ্যাডভোকেট, আত্মহত্যা (Suicide) করেছেন। সাইবার প্রতারকদের ভয়ঙ্কর চাপ সামলাতে না পেরেই নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সোমবার রাতেই তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ (Police)। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে।
ঠিক কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করছেন সেটা ওই চিরকুটেই লিখে রেখে গেছেন শিবকুমার। তিনি লিখেছেন - আমাকে বলা হয়েছে, কেউ আমার নাম-পরিচয় ব্যবহার করে একটি ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Fake Bank Account) খুলেছে এবং সেই অ্যাকাউন্টকে পহেলগাম জঙ্গি হামলার (Pahalgam Attack) অর্থসাহায্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এই অপমান আমি সহ্য করতে পারছি না।
চিরকুটে আরও লেখা, “আমি স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করছি। কেউ আমার নামে নকল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে পহেলগাম সন্ত্রাসী আসিফকে টাকা পাঠানোর অভিযোগ ছড়িয়েছে। আমাকে বিশ্বাসঘাতক (Traitor) বলা হলে আমি বাঁচতে পারব না।”
ঘটনার সময় বর্মার স্ত্রী ও মেয়ে দিল্লিতে ছিলেন, ছেলেও কর্মসূত্রে পুনেতে। স্ত্রী ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়াকে খোঁজ নিতে বলেন। জানালা দিয়ে তাকিয়ে ওই ভাড়াটিয়াই প্রথম দেহটি দেখতে পান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিরকুটে বর্মা নিজের জীবনের কাজের কথাও উল্লেখ করে গেছেন। জানিয়ে গেছেন, ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের (Bhopal Gas Tragedy) সময় শতাধিক মৃতদেহের সৎকার করেছেন তিনি। সেই সময়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সহায়তার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিলেন। প্রায় ৫০ বার রক্তদান করে বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর কথাও লিখেছেন তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) ধরনের সাইবার ব্ল্যাকমেলের ঘটনা, যেখানে ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের মনে তাত্ক্ষণিক আইনি বিপদের ভাবনা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
ভোপাল পুলিশ কমিশনার হরিনারায়ণচরী মিশ্র জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। তাঁর কথায়, “চিরকুটে যে নম্বর ও অ্যাকাউন্টের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলির সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করা সময়ের অপেক্ষা।”
ঘটনাটি ফের একবার সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্তের দিকটিই তুলে ধরে। প্রযুক্তি নির্ভর প্রতারণা কীভাবে মানুষের সমাজিক প্রতিপত্তি, মানসিক সুস্থতা ও জীবন পর্যন্ত কেড়ে নিতে পারে, বর্মার মৃত্যু তারই মর্মান্তিক প্রমাণ।