অভিযুক্তদের বয়ান অনুযায়ী, আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক উমর উন নবি তার ক্যাম্পাসের ঘরেই ছোট আকারে রাসায়নিক পরীক্ষা চালাতেন। সেখানেই তিনি প্রস্তুত করেছিলেন সেই মিশ্রণ, যা পরে আইইডি বানাতে ব্যবহার করা হয়।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 November 2025 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লা (New Delhi Red Fort) এলাকায় ভয়াবহ গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণের (Car Blast) ঘটনায় ফরিদাবাদের 'হোয়াইট কলার' মডিউল (White Collar Module) নিয়ে উঠে এল আরও বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারীদের কাছে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তরা জানিয়েছে, মূল অভিযুক্ত উমর উন নবির কাছে ছিল একটি বিশেষ ‘মোবাইল ওয়ার্কস্টেশন’ (Mobile Workstation)। এটি একটি বিশাল সুটকেস (Secret Suitcase), যেখানে ছিল বোমা তৈরির উপকরণ, রাসায়নিক ও সেগুলি মাপার সরঞ্জাম।
অভিযুক্তদের বয়ান অনুযায়ী, আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Al-Falah University) চিকিৎসক উমর উন নবি তার ক্যাম্পাসের ঘরেই ছোট আকারে রাসায়নিক পরীক্ষা চালাতেন। সেখানেই তিনি প্রস্তুত করেছিলেন সেই মিশ্রণ, যা পরে আইইডি (IED) বানাতে ব্যবহার করা হয়। আটক অপর অভিযুক্ত, ডাক্তার মুজামিল শাকিল জানিয়েছেন, জইশ-এ-মহম্মদের (JeM) যোগাযোগকারী মৌলভি ইরফান আহমেদের হাত ধরে তিনিই প্রথম এই মডিউলে যোগ দেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, আত্মঘাতী হামলার (Suicide Attack) সময়ে উমর উন নবি তার হুন্ডাই আই-২০ গাড়িতে অর্ধসমাপ্ত আইইডি বহন করছিলেন। পরে তিনি নেইল পলিশ রিমুভার এবং সুগার পাউডার মিশিয়ে বিস্ফোরকটি সম্পূর্ণ করেন। প্রথম পরিকল্পনা ছিল জম্মু-কাশ্মীরে বড় ধরনের হামলা চালানোর। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় নুহ-মেওয়াট অঞ্চল থেকে ইউরিয়া সংগ্রহ করে দিল্লির হামলার দিকে ঝুঁকে পড়ে মডিউলটি।
মুজামিলের দাবি, উমার নিজেকে মডিউলের ‘আমির’ (Aamir) বলে পরিচয় দিতেন। নয়টি ভাষায় অনর্গল কথা বলতেন, আর বোমা, বিজ্ঞান ও ধর্ম নিয়ে তার যুক্তি এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে তাকে থামানোর সাহস কারও ছিল না। তদন্তকারী সূত্রের ব্যাখ্যা, তার মেধা ও দক্ষতা সহজেই তাকে একজন নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানীর (Nuclear Scientist) পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারত।
ইতিমধ্যে এও জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল জইশের সঙ্গে যুক্ত ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গিগোষ্ঠীর (White Collar Module)। আর সেই ছক প্রথম তৈরি হয়েছিল ২০২৩ সালে। ধৃত চিকিৎসকেরা জেরায় এমনটাই জানিয়েছেন বলে এনআইএ (NIA) সূত্রে খবর। দিল্লি বিস্ফোরণে তারাই তদন্ত করছে। এনআইএ-র একটি সূত্র বলছে, শাকিল জেরায় দাবি করেছেন, গত দু’বছর ধরে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিলেন তাঁরা। এই দু’বছর ধরে বিস্ফোরক, রিমোট, বোমা তৈরির অন্যান্য সরঞ্জাম জোগাড় করা হয়েছিল।
দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দেশজুড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও ধরপাকড় শুরু করেছে। তদন্তে নেমে শ্রীনগর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা বেশিরভাগই কাশ্মীরের। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণের দুই ষড়যন্ত্রী-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ।