অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস, বাজারে কারসাজি এবং শেয়ারহোল্ডিং নিয়ম লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আদানি গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট দিল সেবি
শেষ আপডেট: 19 September 2025 08:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন শর্ট সেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আনা অভিযোগকে খারিজ করে আদানি গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ ক্লিনচিট (Clean Chit) দিল সেবি (SEBI)। অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস, বাজারে কারসাজি এবং শেয়ারহোল্ডিং নিয়ম লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ (Hindenburg research) প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলে যে, আদানি গোষ্ঠী “ইতিহাসের বৃহত্তম কর্পোরেট জালিয়াতি” করেছে। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, আদানি সংস্থা শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়াতে অফশোর শেল কোম্পানি ব্যবহার করেছে, হিসাবপত্রে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে, প্রকাশ্য শেয়ারহোল্ডিংয়ের নিয়ম মানা হয়নি এবং ঋণের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেশি। রিপোর্ট প্রকাশের পরেই শেয়ার বাজারে বিপর্যয় নেমে আসে— আদানি গোষ্ঠীর বাজার মূলধন প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার কমে যায় এবং ফ্ল্যাগশিপ সংস্থা আদানি এন্টারপ্রাইজেসের শেয়ার এক ঝটকায় ৭০ শতাংশ পড়ে যায়।
সেবির পূর্ণকালীন সদস্য কমলেশ বর্ষ্ণে তার আদেশে লিখেছেন, “অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়নি। সুতরাং অভিযুক্তদের কোনও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন ওঠে না এবং শাস্তিরও কোনও প্রয়োজন নেই।”
সেবির দুই পৃথক আদেশে বলা হয়েছে, দুই পৃথক আদেশে সেবি বলেছে—তদন্তকৃত লেনদেনগুলি ছিল বৈধ ব্যবসায়িক চুক্তি। এগুলি প্রতারণামূলক নয় এবং বাজার কারসাজি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে না। সব ঋণ সুদ-সহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাই কোনও অর্থ আত্মসাত বা গোপন লেনদেনের অভিযোগ খাটে না। তদন্তকালীন সময়ে প্রযোজ্য আইনে এগুলি ‘রিলেটেড-পার্টি ট্রানজাকশন’ হিসেবে ধরা পড়েনি।
সেবি জানিয়েছে, ২০২১ সালের যে সংশোধিত নিয়মে এই ধরণের পরোক্ষ লেনদেনকে রিলেটেড-পার্টি হিসেবে গণ্য করা হয়, তা ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে। তাই পুরনো লেনদেনে সেটি প্রযোজ্য নয়।
হিন্ডেনবার্গ দাবি করেছিল, আদানি গোষ্ঠী অ্যাডিকর্প এন্টারপ্রাইজেস, মাইলস্টোন ট্রেডলিঙ্কস এবং রেহভার ইনফ্রাস্ট্রাকচার নামের সংস্থাকে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে গোপন রুট হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে সেবি জানায়, সেই সময়ে প্রযোজ্য ‘রিলেটেড-পার্টি ট্রানজাকশন’ নিয়মে এই ধরণের পরোক্ষ লেনদেনের কোনও বাধা ছিল না। ফলে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলি বেআইনি নয়।
আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এক্স হ্যান্ডেলে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, “দীর্ঘ তদন্তের পর সেবি জানিয়েছে—হিন্ডেনবার্গের অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। স্বচ্ছতা এবং সততাই সবসময় আমাদের পরিচয়। যে সব বিনিয়োগকারীরা এই ভুয়ো রিপোর্টে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কষ্ট আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি। যারা মিথ্যা ছড়িয়েছে, তাদের দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
গৌতম আদানি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিশ্রুতি—ভারতের প্রতিষ্ঠান, ভারতের মানুষ এবং জাতি গঠনের প্রতি—অটল।”