টানা ৫৪ ঘণ্টা কাজের মধ্যে প্রায় ২৪,১০০ ঘনমিটার ‘ইকো-ম্যাক্স এম৪৫ গ্রেড’ লো-কার্বন কংক্রিট ঢালা হয়েছে।

গুজরাতের এই মন্দিরের ভিত তৈরি করেছে আদানি সিমেন্ট
শেষ আপডেট: 18 September 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও বিশ্বরেকর্ড (World Record)। গুজরাতের (Gujarat) জাসপুরে তৈরি হচ্ছে মা উমিয়ার মন্দির (Umiya Dham)। এই মহাকায় মন্দিরের ভিত্তি তৈরি হয়েছে আদানি সিমেন্ট (Adani Cement) ও পিএসপি ইনফ্রার যৌথ প্রয়াসে। যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় মন্দিরের (Temple) র্যাফট ফাউন্ডেশন (raft foundation)।
কোম্পানির তরফে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, টানা ৫৪ ঘণ্টা কাজের মধ্যে প্রায় ২৪,১০০ ঘনমিটার ‘ইকো-ম্যাক্স এম৪৫ গ্রেড’ লো-কার্বন কংক্রিট ঢালা হয়েছে। এই বিশেষ কংক্রিট আদানি সিমেন্টের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি, যা কার্বন নিঃসরণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনে।
মহাকর্মযজ্ঞে যুক্ত ছিল ২৬টি ‘রেডি-মিক্স কংক্রিট’ প্ল্যান্ট, ২৮৫টি ট্রানজিট মিক্সার, ৩,৬০০ টন উচ্চমানের সিমেন্ট ও ৬০০-রও বেশি দক্ষ কর্মী-প্রযুক্তিবিদ। তিন দিন ধরে শিফটে কাজ করেছেন তাঁরা। পুরো কাজটি এমনভাবে পরিকল্পিত হয়েছিল যাতে কোনও বিরতি না আসে। একই সঙ্গে কংক্রিটের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ‘কুলক্রিট’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে ঢালাইয়ের সময় তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকে।
আদানি সিমেন্টের সিইও বিনোদ বাহেতির কথায়, ‘‘উমিয়া ধাম কেবল আধ্যাত্মিক স্থাপনা নয়, এটি আধুনিক প্রকৌশল ও ভক্তির সেতুবন্ধন। আমাদের লক্ষ্য বিশ্বমানের মাইলফলক তৈরি করা, যেখানে টেকসই প্রযুক্তি এবং বিশ্বাস একসঙ্গে পথ দেখায়।’’ তিনি আরও জানান, ২,০০০ কোটির প্রকল্পটি আগামী দিনে দেশের অন্যতম প্রতীকী আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
বিশ্ব উমিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি আর পি প্যাটেল বলেছেন, ‘‘মা উমিয়ার এই মন্দির ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রকৌশল দক্ষতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আদানি সিমেন্টের অভিজ্ঞতাই আমাদের কাছে এ প্রকল্পের সাফল্যের চাবিকাঠি।’’
প্রস্তাবিত মন্দিরটির উচ্চতা হবে ৫০৪ ফুট। ভিত গড়া হয়েছে ৪৫০ ফুট লম্বা, ৪০০ ফুট চওড়া ও ৮ ফুট গভীর র্যাফট ফট ফাউন্ডেশনের উপর। এই ভিত ১,৫৫১টি ধর্মস্তম্ভ বহন করবে। কেবল ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে ৬০ একর জুড়ে বিশাল এই ক্যাম্পাস।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেছেন প্রায় এক হাজার মানুষ,অন্যদিকে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ অনলাইনে সবটা দেখেছেন। তাঁদের চোখে, এটি কেবল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাফল্য নয়, ভারতীয় সংস্কৃতিরও গর্বের প্রতীক।
বিশ্বের দীর্ঘতম রেলসেতু চন্দ্রভাগা হোক বা মুম্বইয়ের ওয়ার্ল্ড ওয়ান টাওয়ার, একাধিক ঐতিহাসিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকেছে আদানি সিমেন্ট। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল মা উমিয়ার মন্দির।