পরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন আধিকারিকরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 July 2025 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইলে কথা বলা, ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো নিয়ে মা বকাঝকা করায় অভিমানে নিজের অপহরণের ছক কষল এক কিশোরী। ঘরে ফেলে যায় হাতে লেখা মুক্তিপণ চাওয়া একটি চিঠি, যেখানে লেখা, 'তোমার মেয়ে আমাদের কাছে আছে। যদি মেয়েকে নিরাপদে ফিরে পেতে চাও, তবে ১৫ লক্ষ টাকা জোগাড় করো। পুলিশে খবর দিলে ফল ভাল হবে না।' জবলপুরের প্রিয়দর্শিনী কলোনির ঘটনায় হতবাক সকলে।
ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না কিশোরীর মা। ফিরে সেই চিঠি দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেন। নাবালিকা অপহরণের অভিযোগ পেয়ে তৎপর হয় খামারিয়া থানা। সমস্ত জবলপুরজুড়ে, এমনকি ভোপাল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়া হয় খবর। দু'টি বিশেষ দল নামে তদন্তে, একটি ক্রাইম ব্রাঞ্চের, অন্যটি স্থানীয় থানার।
কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, এক অটোচালক ওই বর্ণনার এক কিশোরীকে সদরের এক মন্দিরের কাছে নামিয়ে দিয়েছিলেন। খবর পেয়েই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় সদরের লেন নম্বর ৭-এ ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় মেয়েটিকে।
পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সামনে আসে সত্যি। অপহরণ নয়, মেয়েটি নিজেই সব সাজিয়েছিল। মা রোজ বকেন বলে ক্ষুব্ধ হয়ে সে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। এমনকি নিজের পিগি ব্যাঙ্ক ভেঙে একটা ঘর ভাড়া নেওয়ার টাকাও জোগাড় করেছিল, যাতে একা থাকতে পারে কারও বারণ-ধমক ছাড়া।
খামারিয়া থানার ইন-চার্জ সরোজিনী টোপ্পো এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'রাতারাতি অপহরণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করি। ব়্যানসাম নোট দেখে চিন্তায় পড়ে যাই। দু'টো দল মাঠে নামে। পরে অটোচালকের খবরেই মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে সব স্বীকার করে নেয়। ওই নোট কিশোরীর নিজের হাতের লেখা। স্কুলের খাতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।'
পরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন আধিকারিকরা।
এই ঘটনা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বর্তমান সময়ের শিশু-কিশোরদের মানসিক চাপ কতটা বেড়েছে। পুলিশ পরিবারের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছে, সন্তানদের সঙ্গে যেন আরও বেশি খোলামেলা যোগাযোগ রাখেন অভিভাবকরা। তা হলেই এমন ঘটনা এড়ানো যাবে।