থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিল্পা কৌরব সংবাদমাধ্যমকে জানান, শচিন ও ঋতিকার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল। সন্দেহ থেকেই খুনের ঘটনা।

মৃতা তরুণী ও অভিযুক্ত
শেষ আপডেট: 1 July 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোপালে প্রেমিকার গলা টিপে খুন করলেন লিভ-ইন সঙ্গী। খুনের পর তাঁর দেহ চাদরে মুড়ে দু’দিন ধরে রেখে দিলেন ঘরে। একই বিছানায় বসে মদের নেশায় ঘুমিয়ে কাটালেন অভিযুক্ত। গায়ত্রী নগরের ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম ঋতিকা সেন (২৯)। একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গী, অভিযুক্ত শচিন রাজপুত (৩২) দীর্ঘদিন ধরে কোনও কাজ পাচ্ছিলেন না। প্রেমিকাকে সন্দেহ করতেন প্রবল। তাঁর মনে হত, ঋতিকা অফিসের বসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
সেই নিয়েই গত ২৭ জুন রাতে শুরু হয় প্রবল ঝগড়া। রাগের বশে ঋতিকার গলা টিপে খুন করেন শচিন। কিন্তু যা ঘটে তার পরে, তা ভয়ঙ্কর। খুনের পর চাদরে মুড়ে দেহ রেখে দেন বিছানায়। দু’দিন ধরে সেই মৃতদেহের সঙ্গে থাকেন তিনি। একই খাটে বসে মদ্যপান করতে থাকেন ও ধীরে ধীরে মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন।
পুলিশের অনুমান, আতঙ্ক, অপরাধবোধ ও শক থেকেই ওই অবস্থা হয়েছিল তাঁর।
অবশেষে রবিবার, মদের নেশায় সব কথা এক বন্ধুকে গিয়ে বলেন শচিন। জানান, তিনি ঋতিকাকে মেরে ফেলেছেন। প্রথমে বিশ্বাস না করলেও পরের দিন, সোমবার ফের একই কথা শুনে ওই যুবক পুলিশে খবর দেন। সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ বাজারিয়া থানার পুলিশ ওই বাড়িতে পৌঁছে বিছানার উপর খেকে চাদরে মোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঋতিকা ও শচিন গত সাড়ে তিন বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। গত ৯ মাস আগে গায়ত্রী নগরের ওই ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। শচিন বিবাহিত এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানরা গ্রামের বাড়িতে থাকেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিল্পা কৌরব সংবাদমাধ্যমকে জানান, শচিন ও ঋতিকার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল। সন্দেহ থেকেই খুনের ঘটনা। শচিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
খুনের অভিযোগে শচিনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। তদন্ত চলছে।