পরিবার সন্ধ্যার মৃত্যুর কথা জানতে পেরে হাসপাতালে পৌঁছন। সরকারি হাসপাতালে এমন খুনের ঘটনায় উত্তাল এলাকা। পরিবার ও স্থানীয়রা হাসপাতালের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

সন্ধ্যা ও অভিষেক
শেষ আপডেট: 1 July 2025 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নৃশংস খুন। দেখতে পেয়েও এগিয়ে এলেন না কেউ। চিকিৎসকরাও কিছু বললেন না। ঘটনা মধ্যপ্রদেশের নরসিংপুর জেলার।
নিহত ১৯ বছর বয়সি তরুণীর নাম সন্ধ্যা চৌধুরি। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন তিনি। হাসপাতালের মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁর দেহ। একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেখানে ওই তরুণীর মুখ চেপে অর্থাৎ মুখের ওপর বসে থাকতে দেখা যায় এক যুবককে। এখানেই শেষ নয়, রক্ত বয়ে যাচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতে আর খুব ধীরে ধীরেই ওই তরুণীর গলা কাটছেন তিনি। যা দেখে রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন অনেকে।
ঠিক কী কারণে এত নৃশংসতা? পুলিশ জানাচ্ছে, অভিযুক্তের নাম অভিষেক কোশ্তি। দীর্ঘদিন ধরেই ওই তরুণী অর্থাৎ সন্ধ্যার উপর নজর ছিল তাঁর। ২৭ জুন দুপুর ২টো নাগাদ সন্ধ্যা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বন্ধুর বউকে হাসপাতালে দেখতে যাচ্ছেন বলে। এদিকে তিনি যে যাচ্ছেন, সে খবর ছিল অভিষেকের কাছে। তাই আগে থেকেই হাসপাতালের বাইরে তিনি অপেক্ষা করছিলেন। হাসপাতালের বাইরেই দু’জনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথা হয়, শুরু হয় হামলা।
তারপর হাসপাতালের ভিতরে চলে যান সন্ধ্যা আর ওই হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে সন্ধ্যাকে মাটিতে ফেলে তাঁর মুখের উপর বসে দম বন্ধ করিয়ে ছুরি দিয়ে গলা কাটতে শুরু করেন অভিষেক। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্তম্ভিত হয়ে যান। এর পর অভিষেক নিজেকেও শেষ করে দিতে চান। চেষ্টা করেন আত্মহত্যার। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বাইকে চেপে চম্পট দেন।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো জামা পরা অভিষেক প্রথমে সন্ধ্যাকে সপাটে চড় মারছেন, তারপর মাটিতে ফেলে দিয়ে বুকের উপর বসে গলা কাটছেন।
পুরো বিষয়টি চলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে। অভিষেক ও সন্ধ্যার কাছেই বহু মানুষ ছিলেন, নিরাপত্তা কর্মীও ছিলেন। কিন্তু বাঁচাতে না আসায় উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। এমন ভয়ঙ্কর হত্যালীলা চলার পর ট্রমা কেয়ারে থাকা ১১ জন রোগীর মধ্যে আটজনই সেদিন হাসপাতাল ছাড়েন। বাকি তিনজনও পরদিন সকালে চলে যান আতঙ্কে।
পরিবার সন্ধ্যার মৃত্যুর কথা জানতে পেরে হাসপাতালে পৌঁছন। সরকারি হাসপাতালে এমন খুনের ঘটনায় উত্তাল এলাকা। পরিবার ও স্থানীয়রা হাসপাতালের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ শান্তি পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও মধ্যরাত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় ছিল। পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরই অবরোধ ওঠে।