বেঙ্গালুরুতে এই স্ক্যাম যদিও আজকের নয়, বেশ কিছু বছর ধরে চলছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ইনস্টাগ্রামে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 May 2025 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) আপনি যদি একবার পথচলতি কাউকে মুখ ফুটে বলেছেন আপনি হিন্দি বলতে আর বুঝতে পারেন, বড়সড় স্ক্যামের (Bengaluru scam) ফাঁদে পড়তে পারেন। অথচ কর্নাটকের (Karnataka) সিলিকন ভ্যালিতে (Silicon Valley) অধিকাংশ মানুষই ভারতের নানা প্রান্ত থেকে এসে চাকরিসূত্রে থাকেন। কাজ চালানোর জন্য চলনসই হিন্দিটাই ভরসা সকলের।
বেঙ্গালুরুতে এই স্ক্যাম যদিও আজকের নয়, বেশ কিছু বছর ধরে চলছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ইনস্টাগ্রামে। পথচলতি কোনও দম্পতি আপনাকে এসে জিজ্ঞাসা করতে পারে আপনি হিন্দি বলতে পারেন কিনা। আপনি যদি একবার বলেছেন আপনি হিন্দি বোঝেন, তাহলে সেখানেই তাদের চালে পা দিয়ে ফেলেছেন আপনি। তারা তখন আপনার কাছে দুঃখের ঝুলি খুলে বসবে। গল্পটা খানিক এরকম, ‘আমরা ঠিকাদারের কাছে কাজ করতাম। আমাদের ঠকিয়েছে সেই লোকটা, কোনও পয়সাকড়ি দেয়নি। বাড়ি ফিরতে পারছি না, আমাদের সাহায্য করুন।’
উত্তর ভারতেই কোনও শহরের নাম নেয় তারা, যাতে কতদূর তাদের যেতে হবে সেটা বোঝানো সহজ হয়। ফলে ২ হাজার টাকার নিচে কথাই শুরু হবে না তাদের। কেউ কেউ তো বাচ্চাও সঙ্গে নিয়ে ঘোরে। যাতে গল্পটা বেশ বিশ্বাসযোগ্য করা যায়।
যিনি এই ভিডিও শেয়ার করেছেন, তাঁর কথায়, গত ১০ দিন ধরে তিনি ওই অঞ্চলেই ঘুরতে দেখেছেন ওই দু’জনকে। কিন্তু তারা সম্ভবত ওই মহিলাকে দেখতে পায়নি, আর ঘটনাচক্রে তাঁর কাছেই এসে টাকা চান ওই দু’জন। ফলে সেই ফাঁদে পা দেননি ওই ভিডিও শেয়ারকারী। কিন্তু তিনি এও জানিয়েছেন যে, তিনি যখন নতুন ছিলেন, এই ঘটনায় টাকা খুইয়েছেন তিনি।
এই ভিডিও সামনে আসতেই কমেন্ট সেকশনে একে একে মুখ খুলেছেন অনেকেই। কারও সঙ্গে তো একাধিকবার ঘটেছে এই স্ক্যাম। সবার সঙ্গেই কমবেশি একই গল্প ফেঁদেছে ওই প্রতারকরা। ব্যাগপত্র সহ পরিবার নিয়ে ঘুরতেও দেখেছেন তাদের। একজন লিখেছেন, ‘আমার সঙ্গেও হয়েছে এটা, দু’হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এখন দেখছি এই ব্যাপার।’
কর্নাটকের মাটিতে দাঁড়িয়ে হিন্দিতে কথা বলা নিয়েই বিতর্ক ছড়িয়েছে কতবার। তারপরে হিন্দি বলতে বা বুঝতে জানার এই বিপদ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাঁকা কথা বলতেও ছাড়েননি মানুষ। একজন লিখেছেন, ‘এক হিন্দি জানা মানুষই আরেক হিন্দি জানা মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। এর থেকে ভাল কন্নড় শিখে সাবধানে থাকা।’
অসুবিধাটা এখন এটাই যে, কেউ যদি সত্যি সত্যি এইরকম কোনও বিপদে পড়েন, তাহলে কেউ কি তাদের সাহায্য করতে আসবে! এই প্রসঙ্গ তুলে কমেন্ট সেকশনেই একজন লিখেছেন, ‘একবার তো আমি জেনেশুনেই ৫০০ টাকা দিয়েছিলাম। কেন দেব না! যদি ১% সম্ভাবনাও থেকে থাকে যে সত্যিই তারা বিপদে পড়েছে! ৫০০ টাকার থেকেও বেশি টাকা হয়তো একটা পিজ্জা খেয়ে উড়িয়ে দিই।’
কিন্তু কমেন্ট সেকশন বলছে, এইরকম ঘটনা শুধু বেঙ্গালুরুতেই নয়, ভারতের বড় বড় শহর যেমন দিল্লি, হায়দরাবাদ, নয়ডা, মুম্বইতেও চলছে বহু বছর ধরে। বাদ যায়নি কিছু ছোটখাট শহরও।