কেরলের কলামন্দলমের (Kerala) ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছেন ১৬ বছরের সাবরি (Sabri)।

১৬ বছরের সাবরি
শেষ আপডেট: 4 October 2025 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের কলামন্দলমের (Kerala) ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছেন ১৬ বছরের সাবরি (Sabri)। ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ নৃত্যসংস্থা কেরল কলামন্দলম-এ (Kalamandalam) তিনিই হতে চলেছেন প্রথম মুসলিম ছাত্রী (Muslim Student) যিনি অভিনয় করবেন প্রাচীন নৃত্যনাট্য কথাকলি-তে (Kathakali)।
১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলামন্দলমে এমন নজির আর হয়নি। সাবরির হাতে সেই ইতিহাস রচনার দায়িত্ব। আসন্ন অনুষ্ঠানে সহপাঠীদের সঙ্গে মঞ্চে উঠে তিনি অভিনয় করবেন কৃষ্ণ বেসমে অর্থাৎ কৃষ্ণের চরিত্রে।
সাবরির নিজের কথায়, “আমার স্বপ্নটা অবশেষে সত্যি হতে চলেছে। ছোটবেলা থেকেই আমি এই নাচে মুগ্ধ ছিলাম।”
সাবরির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর বাবা নিজামের উৎসাহে। পেশায় আলোকচিত্রী নিজাম কোল্লাম জেলার বাসিন্দা। কাজের সূত্রে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর সময় মেয়ের চোখে তিনি দেখেছিলেন কথাকলির রঙ, সাজসজ্জা আর নৃত্যের প্রতি অদম্য কৌতূহল। তখনই ঠিক করেন, মেয়েকে এই শিল্প শেখাবেন।
২০২১ সালে যখন কেরল কলামন্দলম ঘোষণা করল যে, তারা প্রথমবারের মতো মেয়েদের ভর্তি নেবে— তখন সাবরি ছিল ক্লাস সিক্সে। ভর্তি শুরু হয় ক্লাস এইট থেকে। বয়সের ফারাকে সুযোগ হারানোর ভয় ছিল। তাই নিজাম স্থানীয় এক প্রশিক্ষকের কাছে মেয়ের জন্য প্রাথমিক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষ হতে না হতেই এল মহামারি। বন্ধ হয়ে যায় সব।
তবে লকডাউন কাটতেই সাবরি আবার নাচে ফিরল। নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গিয়ে ২০২৩ সালে সে ভর্তি হয় কলামন্দলমে।
ভর্তির সময়ও বাধা এসেছিল। সাবরির বয়স কম বলে প্রথমে ভর্তি নাকচ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সেই সময়েই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বিখ্যাত কথাকলি গুরু গোপি। নিজামের কথায়, “গোপি স্যার না থাকলে সাবরি ভর্তি হত না। ওঁর জোরাজুরিতেই কর্তৃপক্ষ রাজি হয়। তিনিই সাবরিকে প্রথম ‘মুদ্রা’ শেখান।”
এখন প্রতিদিন ভোরে উঠে সাবরি নাচের অনুশীলন করে দুপুর পর্যন্ত। তার পরেও ক্লান্ত নয় সে। বলছে, “শুরুর দিকে খুব কঠিন ছিল, এখন সব সামলে নিতে পারছি।”
নিজামের পরিবারেও এই সিদ্ধান্তে কোনও আপত্তি ওঠেনি। তাঁর সোজা বক্তব্য “শিল্পের সঙ্গে ধর্মকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। ও যা ভালবাসে, সেটাই শেখা উচিত। আমি এটাকে ওর শিক্ষার অংশ বলেই দেখি।”
আগামী দিনে সাবরির প্রথম মঞ্চাভিনয়ের আয়োজন। কৃষ্ণর ভূমিকায় প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। কথা অনুযায়ী, শোয়ের আগে প্রায় এক ঘণ্টার প্রস্তুতি চলে সাজসজ্জা, রঙিন মুখোশ, জটিল চুট্টি (মুখে তোলা বিশেষ মেকআপ)— সবই কথাকলির ঐতিহ্য বহন করে। কৃষ্ণ বেসমে সাবরির অভিষেক তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়, এক ঐতিহাসিক মুহূর্তও।