ভারতের বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ‘এটা ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নয়, এটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিক্রিয়া।

শেষ আপডেট: 11 June 2025 07:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ত্রাস ও পারমাণবিক ব্ল্যাকমেলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহমতের প্রয়োজন, কড়া বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে সফরে গিয়ে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ‘এটা ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নয়, এটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিক্রিয়া। তাই এ বিষয়টিকে 'ভারত বনাম পাকিস্তান' না ভেবে 'ভারত বনাম সন্ত্রাসিস্তান' হিসেবেই দেখা উচিত।’ এই মন্তব্য করে তিনি সরাসরি পাকিস্তানকে একটি 'সন্ত্রাসপ্রেমী রাষ্ট্র' বলে আখ্যা দেন এবং সন্ত্রাস ও পারমাণবিক হুমকির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলার আহ্বান জানান।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিদেশ ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কায়া কালাসের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ‘সন্ত্রাসের কোনও রূপ বা প্রকাশই গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে, পারমাণবিক ব্ল্যাকমেলের সামনে মাথা নোয়ানো চলবে না। এটা সারা বিশ্বের জন্য একটি জটিল চ্যালেঞ্জ। এর বিরুদ্ধে আমাদের মধ্যে দৃঢ় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা জরুরি।’
এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট: ২২ এপ্রিলের পহেলগামে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা, যেখানে ২৬ ভারতীয় প্রাণ হারান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মে জবাবি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করে ভারত।
এক সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত আর এই ধরনের হামলা সহ্য করবে না। যদি এপ্রিলের মতো বর্বরতা আবার হয়, তাহলে তার কঠিন জবাব দেওয়া হবে। সেই জবাব হবে শুধু জঙ্গি গোষ্ঠী নয়, জঙ্গি নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও।’
তিনি সাফ জানান, ভারতের জবাব ‘ভৌগোলিক সীমারেখায়’ বাঁধা থাকবে না। তাঁর ভাষায়, ‘ওরা যদি পাকিস্তানের গভীরে গিয়েও লুকিয়ে থাকে, আমরাও গভীরে ঢুকেই আঘাত করব।’
যদিও পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা খানিকটা কমেছে, তবুও জয়শঙ্কর মনে করেন ‘মূল সমস্যা এখনও অমীমাংসিত’। তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তান সেই রাষ্ট্র যারা রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসকে ব্যবহার করে।’
প্রশ্ন আসে, তাহলে কি উত্তেজনার পেছনে থাকা কারণগুলো এখনও জিইয়ে রয়েছে? জয়শঙ্করের জবাব, ‘আপনি যদি সন্ত্রাসের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে সংঘাতের উৎস বলেন, তবে হ্যাঁ, সেটা এখনও আছে।’
ভারতের পাল্টা আক্রমণ নিয়েও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, ‘আমার মতে, রাফালের কার্যকারিতা হোক বা ভারতের সামরিক ক্ষমতার প্রমাণ, পাকিস্তানের যে আটটি মূল বিমানঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে, তা গুগল স্যাটেলাইট চিত্রেও স্পষ্ট।’
বিদেশমন্ত্রীর দাবি, পাকিস্তান বৈঠকে বসতে বাধ্য হয় শুধুমাত্র এই কারণেই যে, ১০ জুন সকালে ভারত তাদের ওই আটটি বিমানঘাঁটি অচল করে দেয়।
২২ এপ্রিলের সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগে ৩৩টি দেশের রাজধানীতে সাতটি বহুদলীয় প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়, যাঁরা পাকিস্তানের সন্ত্রাসে মদতের তথ্য সহ ভারতের সংযত কিন্তু দৃঢ় প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে অবগত করেন।
ব্রাসেলস সফর ছাড়াও জয়শঙ্করের ইউরোপ সফরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সফরের মূল লক্ষ্য, সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করা।