বিদেশমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার আবহেও ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে ‘‘পরীক্ষিত ও সময়সিদ্ধ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’’ হিসেবে আরও সুদৃঢ় করে তোলা।

জয়শঙ্কর-পুতিন সাক্ষাৎ
শেষ আপডেট: 21 August 2025 20:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার (Russia) রাজধানীতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। তিন দিনের রাশিয়া সফরে গিয়ে বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকের পটভূমিতে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) কড়া সিদ্ধান্ত। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জেরে ভারতকে কার্যত চাপ দিতে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ৫০ শতাংশে (Tariffs) বাড়িয়ে দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, দিল্লি মস্কোর তেল কিনে কার্যত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে।
তবে সেই চাপ সরিয়ে রেখে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করার দিকেই জোর দিলেন জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার বৈঠকের শুরুতেই তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল সম্পর্কগুলির একটি হল ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক। একই সুরে রুশ বিদেশমন্ত্রী সার্জেই লাভরভ এই বন্ধুত্বকে ‘‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’’ বলে উল্লেখ করেন।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক আলোচনার পরে লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করে জয়শঙ্কর জানান, রাজনৈতিক সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নানা দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। তিনি রুশ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্রিয়ভাবে ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, “বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে। আমাদের মন্ত্র হওয়া উচিত— আরও বেশি কাজ, এবং তা নতুনভাবে করা।”
বিদেশমন্ত্রী বলেন, শুল্ক ও অ-শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করা, লজিস্টিকস সহজ করা, ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর, নর্দার্ন সি রুট ও চেন্নাই-ভ্লাদিভোস্তক করিডরের মাধ্যমে সংযোগ বাড়ানো এবং মসৃণ পেমেন্ট ব্যবস্থাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

রুশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে ৭০০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে এই অঙ্ক ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ বিলিয়ন ডলারে। এর বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ভারতীয় আমদানিকৃত রুশ তেল ও জ্বালানি। তবে চিন্তার বিষয়, এই বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের ঘাটতি বিপুল আকার নিয়েছে— ২০২১ সালে যেখানে ঘাটতি ছিল ৬.৬ বিলিয়ন ডলার, বর্তমানে তা প্রায় ৫৯ বিলিয়ন ডলার।
মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সরাসরি মুখ না খুললেও জয়শঙ্কর স্বীকার করেছেন, ‘‘জটিল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে’’ এই বৈঠক হচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নেতৃত্ব স্তরে মস্কো ও নয়াদিল্লি ‘‘নিয়মিত ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ’’ বজায় রেখেছে।
বিদেশমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার আবহেও ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে ‘‘পরীক্ষিত ও সময়সিদ্ধ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’’ হিসেবে আরও সুদৃঢ় করে তোলা।