শি-জয়শঙ্কর সাক্ষাতের তীব্র সমালোচনা করে মঙ্গলবার লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “বিদেশমন্ত্রী (জয়শঙ্করের) এখন পুরোদস্তুর সার্কাস চালাচ্ছেন, ওঁর লক্ষ্য ভারতের বিদেশনীতিকে ধ্বংস করা।”

শেষ আপডেট: 15 July 2025 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগেই বাণিজ্য সভার এক অনুষ্ঠানে গিয়ে ভারতীয় বাহিনীর এক সেনা কর্তা বলেছিলেন, অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময়ে পাকিস্তানকে রিয়েল টাইমে সাহায্য করছিল বেজিং। সেই স্মৃতি এখনও সতেজ। এরই মধ্যে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar) বৈঠক ঘিরে ফের উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ। শি-জয়শঙ্কর সাক্ষাতের তীব্র সমালোচনা করে মঙ্গলবার লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) বলেন, “বিদেশমন্ত্রী (জয়শঙ্করের) এখন পুরোদস্তুর সার্কাস চালাচ্ছেন, ওঁর লক্ষ্য ভারতের বিদেশনীতিকে ধ্বংস করা।”
একটা সময়ে বেজিংয়ে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ছিলেন জয়শঙ্কর। তিনি রাষ্ট্রদূত থাকাকালীন বহুবার চিন সফরে গিয়েছিলেন তৎকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি তা নিয়েও জয়শঙ্করের সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।
এদিন রাহুলের সমালোচনার পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও বলেন, “বিদেশমন্ত্রী যদি সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা শি-কে জানান, তবে তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, ‘অপারেশন সিঁদুরের’-এর সময় চিন পাকিস্তানকে নিখুঁত সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছিল।”
জয়রাম আরও দাবি করেন, চিনের সাহায্যে পাকিস্তান ‘সিঁদুর’ অভিযানকেই পরিণত করে তুলেছিল এক ‘লাইভ ল্যাব’-এ, যেখানে তাদের নতুন অস্ত্র ও যুদ্ধপ্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছিল বেজিং। জয়রাম আরও বলেন, “J-10C যুদ্ধবিমান, PL-15E ক্ষেপণাস্ত্র, নানা ড্রোন এবং রিয়েল টাইম ইন্টেলিজেন্স — পাকিস্তানকে সাহায্য করতে সবই ব্যবহার করেছে চিন।”
জয়রামের এও প্রশ্ন “১৯৬২ সালে চিনা আগ্রাসনের সময় যখন সংসদে বিতর্ক হয়েছে, তখন এখন কেন নয়? এখন যখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, তখন তো তা আরও দরকার।”
আবার কংগ্রেস মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাথ বলেন, “এটা আশ্চর্যের কিছু নয়। ২০২৩ সালে জয়শঙ্কার বলেছিলেন, ভারত একটি ছোট অর্থনীতি, বড় দেশের সঙ্গে লড়াই করতে পারে না। সেই মানসিকতা থেকেই আজ এই নতজানু কূটনীতি।”
চিন-ভারত সীমান্ত সমস্যা, দালাই লামার উত্তরসূরি নিয়ে বিতর্ক, চিনের রফতানি নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতের আইফোন (iPhone) উৎপাদন কেন্দ্রে চিনা শ্রমিকদের প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে— এরকম পরিস্থিতিতে জয়শঙ্কর-শি সাক্ষাৎ আসলে কার স্বার্থে? বৈঠক পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের অভিযোগ, “এই বিদেশনীতি ভারতের নয়, এটি দুর্বলতা ও বিভ্রান্তির নামান্তর।”