ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য নিজের দাবিতেই অনড়। তিনি সাফ বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানকে বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দিয়ে তিনি যুদ্ধবিরতি করিয়েছিলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 June 2025 03:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের (India) বন্ধু দেশের মধ্যে একদিকে যেমন আমেরিকা (America) রয়েছে, অন্যদিকে আছে রাশিয়া (Russia)। যদিও আমেরিকা এবং রাশিয়া পরস্পরের কতটা কাছের, তা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। কিন্তু সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে (Jammu Kashmr) পুতিনের দেশ মনোভাব যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) পছন্দ হবে না, এটা মনে করছেন অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরাই।
পহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সংঘাত (India Pakistan Conflict) হয়েছিল। ৪ দিনের সেই যুদ্ধ পরিস্থিতি থামানোর কৃতিত্ব বারংবার নিয়েছেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতা করতে চেয়েও উদ্যোগী হয়েছেন। যদিও ভারতের স্পষ্ট অবস্থান, এটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। তৃতীয় কারও হস্তক্ষেপ তাঁদের পছন্দ নয়। ট্রাম্প অবশ্য এই বক্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে পরেও একই মন্তব্য করেছেন। রাশিয়া কিন্তু এক্ষেত্রে ভারতের 'পাশে'। তাঁরা বলছে, কাশ্মীর ইস্যু দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হোক। তাহলে কি পুতিন ট্রাম্পের আশায় জল ঢালছেন?
সম্প্রতি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এমন মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়া চায় নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে আলোচনা হোক বা বলা ভাল তাদের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের এক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন লাভরভ। তারপরই এই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন তিনি। অর্থাৎ, রাশিয়া প্রত্যক্ষভাবে না বললেও বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তাঁরাও এই ইস্যুতে আমেরিকার 'নাক গলানো' পছন্দ করছে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য নিজের দাবিতেই অনড়। তিনি সাফ বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানকে বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দিয়ে তিনি যুদ্ধবিরতি করিয়েছিলেন। দুই দেশই তাঁর প্রস্তাবে সহমত পোষণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এও জানান, দ্রুত পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শুল্ক এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বৈঠক হবে। তারপর ভারতের পালা। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে নয়াদিল্লির তরফে এখনও এই বিষয়ে মুখ খোলা হয়নি।
যদিও সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্যসচিব হোয়ার্ড লুটনিক বলেছেন, আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়া কোনও অদূর ভবিষ্যৎ নয়। আশা করা যায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সুখবর শোনাবে দুই দেশের সরকার।
ভারতের বাজার এবং অর্থনীতির ভূয়শী প্রশংসাও করেছেন লুটনিক। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, ভারতবাসীর মধ্যে সবসময়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে যা তাঁদের দেশের অর্থনীতিকে ওপরে তুলতে সাহায্য করে। তাই ভারতে যা করা যায়, অন্য কোনও দেশে তা করা যায় না। ভবিষ্যতে আমেরিকা-ভারত শুল্ক এবং বাণিজ্য চুক্তি বিশ্বকে যে দিশা দেখাবে, তা নিশ্চিত বলে মত লুটনিকের।