সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত (RSS Chief Mohan Bhagwat) খোদ নিজে বিজেপি (BJP) এবং আরএসএসের মধ্যে মূল ফারাকটা স্পষ্ট করে দিলেন।

ভাগবত বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে। এআই নির্মিত ছবি।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) কোনও আধা সামরিক বাহিনী (Paramilitary Organisation) নয়। আরএসএস কর্মীদের উর্দি ও শারীরিক কসরত দেখে একে আধা সেনা সংগঠন ভাবলে ভুল বোঝা হবে। আর থেকেও বড় কথা হল, ভারতীয় জনতা পার্টির দিকে তাকিয়ে আরএসএসকে বোঝার চেষ্টা করা হলে তা মস্ত ভুল হবে। সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত (RSS Chief Mohan Bhagwat) খোদ নিজে বিজেপি (BJP) এবং আরএসএসের মধ্যে মূল ফারাকটা স্পষ্ট করে দিলেন।
মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ভোপালে (Bhopal) সঙ্ঘের শতবর্ষবার্ষিকী উদযাপন বর্ষের একটি অনুষ্ঠানের ভাষণে দিচ্ছিলেন ভাগবত। আজ, শনিবার তিনি সেখানে আরও দুটি পৃথক কার্যসূচিতে অংশ নেবেন। ভাগবত বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করে। আরএসএসের জন্ম সবকিছুর বিরোধিতা করা কিংবা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি হিসেবে হয়নি। এখানেই এই সংগঠনের অভিনবত্ব। যদিও আরএসএসকে জনসঙ্ঘ ও পরবর্তীতে বিজেপির মাতৃসঙ্ঘ বলে মনে করা হয়।
ভাগবতের কথায়, আমরা উর্দি পরি, শারীরিক কসরত করে আত্মরক্ষা ও দেশরক্ষার জন্য শরীর গঠন করি। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা একটি আধাসেনার দল। কেউ যদি বিজেপি কিংবা বিদ্যা ভারতীর (আরএসএসের স্বীকৃত একটি শাখা সংগঠন) চশমায় আমাদের দেখে, তাহলে তা হবে মস্ত ভুল। সমাজকে একপথে এনে চলার বার্তা দেয় সঙ্ঘ। সমাজে মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা পরায়ণতা শেখানোর কাজ করে। যাতে ভারত ভবিষ্যতে আর কখনও বিদেশি শক্তির পদানত না হয়।
তিনি দাবি করে বলেন, আরএসএস সম্পর্কে মিথ্যা ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এখনকার দিনে মানুষ সত্য জানতে খুব একটা গভীরে যায় না। তারা মূল উৎসের দিকে যায় না। সহজেই তারা উইকিপিডিয়ায় ঢোকে, যেখানে সবকিছু সত্যি বলা থাকে না। যারা একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাসের দিকে তাকাবে, তারাই শুধু বুঝতে পারবে সঙ্ঘ আসলে কী?
এইসব ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল অপব্যাখ্যার কারণেই আরএসএসের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য মানুষের কাছে তুলে ধরার তাৎপর্য রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সবকিছুর বিরোধিতা বা বিপরীত করার জন্য জন্মাইনি। আমাদের সঙ্গে কারও বৈরিতা বা প্রতিযোগিতাও নেই। আমরা শুধু চাই জন্মভূমির সুরক্ষা ও দৃঢ়-সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন।
স্বদেশী সামগ্রীর গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে ভাগবত বলেন, আত্মনির্ভর হতে গেলে আপনাকে আত্ম-গৌরব বোধ করতে হবে। দেশীয় জিনিস কিনলে আপনার দেশেরই একজন নাগরিক হাতে কাজ পাবে। স্বদেশীর মানে বিশ্ববাণিজ্য থেকে নিজেকে ছেঁটে ফেলা নয়। ওষুধের আমদানি তো করতেই হবে, কারণ আধুনিক অনেক ওষুধই এখনও এদেশে উৎপাদন হয় না। তবে এর জন্য কেউ নিজের ইচ্ছেমতো শুল্ক চাপিয়ে দেবে তা হতে পারে না। বাণিজ্য চুক্তি হবে, তবে তা শুধুমাত্র ভারতের নিজস্ব শর্তে।