সাধারণ মানুষের ভিতরে ডলার (US Dollar) ও ইরানি রিয়ালের (IRR) আকাশপাতাল ফারাক নিয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরম দুর্দশায় পৌঁছেছে।
.jpeg.webp)
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের (India) ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি করা ছবি।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে (Iran) ভয়ঙ্কর মুদ্রাস্ফীতির (Iran Inflation) জেরে দেশের আর্থিক কাঠামো প্রায় ভেঙে পড়ার মুখে। সাধারণ মানুষের ভিতরে ডলার (US Dollar) ও ইরানি রিয়ালের (IRR) আকাশপাতাল ফারাক নিয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরম দুর্দশায় পৌঁছেছে। চলতি এই অস্থিরতা— সরকার-বিরোধী আন্দোলন, যা দমন করতে গিয়ে মানবাধিকারের (Iran Human Rights) প্রশ্ন এবং অন্যদিক থেকে মার্কিন (US) ও পশ্চিমী চাপ— নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে তুলে এনেছে তেহরানকে (Tehran)। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের (India) ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দিল্লি কি ইরানের সরকারের পাশে দাঁড়াবে? নাকি চলমান গণআন্দোলনের (Iran protests) প্রতি নৈতিক সমর্থন জানাবে— এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ভারতের বৈশ্বিক রাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থানের ভিতর।
ভারতের বৈদেশিক নীতি একটি মূল স্তম্ভ হল ‘non-interference’ বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। সেই নীতির আলোকে দিল্লি বরাবরই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ইরানের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা কম। ভারতের কূটনৈতিক বার্তা সাধারণত সীমাবদ্ধ থাকে ‘স্থিতিশীলতা’, ‘সংলাপ’ ও ‘শান্তিপূর্ণ সমাধান’-এর আহ্বানে।
একই সঙ্গে বাস্তব প্রেক্ষিত হল— ইরান ভারতের জন্য নিছক আরেকটি পশ্চিম এশীয় দেশ নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা, মধ্য এশিয়ায় প্রবেশাধিকার এবং আফগানিস্তান ঘিরে ভূ-কৌশলগত স্বার্থে ইরানের ভূমিকা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। চাবাহার বন্দর প্রকল্প (Chabahar Port project) এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ, যা পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের একমাত্র কার্যকর করিডর।
তবে এই সম্পর্কও পুরোপুরি দায়মুক্ত নয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পশ্চিমী চাপ এবং রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠতা— এই তিনটি বিষয় দিল্লিকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করেছে। গত কয়েক বছরে ভারতের তেল আমদানি ইরান থেকে কার্যত বন্ধ হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি। বরং ভারত চেষ্টা করেছে নীরব কূটনীতির মাধ্যমে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে।
ইরানে চলতি আন্দোলনের প্রশ্নে ভারত প্রকাশ্যে সমর্থনের পথে হাঁটলে তা তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে। আবার সরাসরি ইরানি সরকারের পক্ষ নিলে পশ্চিমী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দিল্লির জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো— নৈতিক অবস্থান ও কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের সম্ভাব্য অবস্থান হবে সতর্ক ও পরিমিত। মানবাধিকার প্রশ্নে ভারত বিশ্বের আর পাঁচটা ভাষায় কথা বললেও নয়াদিল্লি সরাসরি আন্দোলনের পক্ষে বা বিপক্ষে দাঁড়াবে না। বরং ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রেখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরানের সংকট ভারতের জন্য এক কঠিন কূটনৈতিক সমীকরণ। এখানে আবেগের নয়, বরং বাস্তববুদ্ধির জয়ই ভারতের বৈদেশিক নীতির চেনা পথ। নয়াদিল্লি সেই পথেই হাঁটবে— নীরব, সংযত এবং হিসাব মেপে।