ছত্তীসগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় একটি স্কুলের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষার চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নপত্রের একটি প্রশ্ন ঘিরে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেনে কুকুরের নামের অপশনে ‘রাম’ দেওয়া থাকা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বেধে যায়।
শেষ আপডেট: 8 January 2026 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একে রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব তার দোসর। কুকুরের নাম কি রাম (Ram Name) হতে পারে? এই বিতর্কে সাতসমুদ্র একাকার হয়ে গেল বিজেপি শাসিত ছত্তীসগড়ে (Chhattisgarh)। ছত্তীসগড়ের মহাসমুন্দ (Mahasamund) জেলায় একটি স্কুলের হাফ ইয়ারলি পরীক্ষার চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি প্রশ্নপত্রের (Exam Controversy) একটি প্রশ্ন ঘিরে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেনে কুকুরের নামের অপশনে ‘রাম’ দেওয়া থাকা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বেধে যায়। প্রশ্নটি ছিল— ‘মোনার কুকুরের নাম কী?’ চারটি বিকল্পের মধ্যে একটি ছিল ‘রাম’। এই নাম থাকাতেই আপত্তি তোলে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের (VHP, Bajrang Dal) কর্মীদের অভিযোগ, হিন্দুদের আরাধ্য দেবতা রামের নাম কুকুরের নাম হিসেবে বিকল্পে রাখার অর্থ হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে (Religious Sentiments) আঘাত। এর প্রতিবাদে তারা মহাসমুন্দে জেলা শিক্ষা আধিকারিক বিজয় লাহরের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় এবং তাঁর কুশপুতুল দাহ করে। পরে জেলাশাসকের কাছেও একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
জেলাশাসক বিনয়কুমার লাঙ্গেহ বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছেন। জেলা শিক্ষা আধিকারিক তাঁকে রিপোর্ট দেবেন, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, ওই হাফ ইয়ারলি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রগুলি মহাসমুন্দে নয়, প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের রাজনন্দগাঁও জেলায় ছাপা হয়েছিল। জেলা শিক্ষা আধিকারিকের দাবি, তিনি যে প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছিলেন, ছাপার সময় সেটিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এই পরিবর্তনের জন্য স্কুল শিক্ষা দফতর দায়ী নয়।
বিজয় লাহরে বলেন, শ্রীরাম তাঁদের কাছেও পূজনীয়। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ছাপাখানাকে শীঘ্রই নোটিস পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। এই ঘটনায় কয়েকজন অভিভাবকও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, ছোট ক্লাসের পড়ুয়াদের পরীক্ষায় এ ধরনের প্রশ্ন রাখা একেবারেই অনুচিত এবং আপত্তিকর।
বৃহস্পতিবার জেলা শিক্ষা আধিকারিক প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি জানান, অনুমোদিত প্রশ্নপত্র পাঠানো হলেও ভুল প্রশ্নপত্র ছাপা হয়েছিল। পরীক্ষার গোপনীয়তার কারণে তা আগে ধরা পড়েনি। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্কিত বিকল্পটি সরিয়ে নতুন বিকল্প বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রেসের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে এবং ছাপা প্রশ্নপত্রের কপি জমা দিতে বলা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপার প্রক্রিয়া আরও কড়া করা হবে।