দেশজুড়ে পথকুকুরের (Stray Dogs) আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)।
.jpeg.webp)
কুকুর মাত্রেই তা সে পোষ্য (Pet Dogs) হলেও, সবসময় বুঝতে পারে কে তাকে ভয় পাচ্ছে। এআই দিয়ে তৈরি ছবি।
শেষ আপডেট: 8 January 2026 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও মানুষ ভয় পেয়েছে কিনা তা কুকুর সহজেই টের পায়। আর কুকুর দেখে কেউ ভয় পেলে তাকে কামড়ায় তারা। দেশজুড়ে পথকুকুরের (Stray Dogs) আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এমনই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এন ভি আঞ্জারিয়া-র বেঞ্চ জানায়, প্রাণীরা প্রায়ই মানুষের আচরণের প্রতিক্রিয়া দেখায়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আদালত বলে, মানুষের ভয় অনেক সময়ই কুকুরের মধ্যে হামলার প্রবণতা উসকে দেয়।
শুনানিকালে বেঞ্চ মন্তব্য করে, কুকুর মাত্রেই তা সে পোষ্য (Pet Dogs) হলেও, সবসময় বুঝতে পারে কে তাকে ভয় পাচ্ছে। সেটা টের পেলেই তাকে কামড়ায় তারা। শুনানিতে উপস্থিত এক পশুপ্রেমী (Dog Lover) এই মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে মাথা নেড়ে আপত্তি জানান। তাতেই বেঞ্চ তাঁকে সতর্ক করে বলে, ম্যাডাম, মাথা নাড়বেন না। যদি কুকুর বুঝে যায় আপনি ভয় পাচ্ছেন, তাহলে হামলার আশঙ্কা আরও বেশি। এমনকী আপনার নিজের পোষ্যও তা করতে পারে।
এই শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টের আগের দেওয়া নির্দেশাবলি সংশোধনের দাবিতে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার অংশ। একদিকে পোষ্য ও পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি, অন্যদিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা চাওয়া আবেদনকারীরা—উভয় পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। মামলার মূল প্রশ্ন, ভবঘুরে কুকুর ও অন্যান্য পশুর কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা বিপন্ন হচ্ছে এবং সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলি ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা।
এর একদিন আগেই আদালত জানায়, বহু পুরসভা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ। বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, পথেঘাটে ঘুরে বেড়ানো পশুর কারণে মৃত্যু শুধু কুকুরের কামড়েই সীমাবদ্ধ নয়, পথ দুর্ঘটনাতেও বহু প্রাণ যাচ্ছে। আদালতের মন্তব্য, কোনও প্রাণী কখন কামড়াবে আর কখন নয়, তা আগাম বোঝা যায় না। তাই প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই সবচেয়ে জরুরি।
এদিন প্রবীণ আইনজীবী সি ইউ সিং আদালতে যুক্তি দেন, হঠাৎ করে ভবঘুরে কুকুর সরিয়ে দিলে তার অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাঁর দাবি, এতে ইঁদুরের উপদ্রব বাড়তে পারে, আবার অতিরিক্ত পশুকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখলে সেগুলি রোগের আঁতুড়ঘরে পরিণত হতে পারে। তাই তাঁর যুক্তি, এক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার।
এই সওয়ালের উত্তরে বেঞ্চ কিছুটা রসিকতার সুরে বলে, ইঁদুর দমনে বিড়াল প্রাকৃতিক সমাধান। তাই কম কুকুর, বেশি বিড়ালের টোটকাও উঠে আসে আদালতের মন্তব্যে। এরপরই বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতালের করিডর দিয়ে কতগুলি কুকুর অবাধে ঘুরে বেড়াবে? তা কেউ বলতে পারেন!