পাটনার দানাপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ইন্দিরা আবাস যোজনায় তৈরি পুরনো বাড়ির ছাদ ভেঙে ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যু একই পরিবারের পাঁচ জনের।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 10 November 2025 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুমের মধ্যে ভেঙে পড়ল ছাদ। অঘোরে মৃত্যু হল পাটনার একই পরিবারের পাঁচজনের। বিপজ্জনক বাড়ি ঘোষিত হয়েছিল আগেই, তাও সেখানে ওই পরিবারটি বসবাস করছিল বলে উঠছে অভিযোগ।
আখিলপুর থানার অন্তর্গত মানাস গ্রামের ঘটনা। মৃতদের নাম বাবলু খান, তাঁর স্ত্রী রোশন খাতুন, ছেলে মহম্মদ চাঁদ, মেয়ে রুখসার এবং কনিষ্ঠ কন্যা চাঁদনি। ওই বাড়িটি বহু বছর আগে ‘ইন্দিরা আবাস যোজনা’র আওতায় নির্মিত হয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। তবুও তার মধ্যেই ওই পাঁচজন কোনওমতে থাকছিলেন।
রবিবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন পাঁচজন। সেই সময় আচমকাই বাড়ির ছাদ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান সকলে। আওয়াজ পেয়ে প্রতিবেশীরা পৌঁছন, তবে ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনেরই।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় ছাদের একাধিক জায়গায় ফাটল দেখা গিয়েছিল। আর্থিক সমস্যার কারণে পরিবারটি বাড়ির সংস্কার করতে পারেনি। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, এলাকায় ‘ইন্দিরা আবাস যোজনা’র আওতায় নির্মিত আরও বেশ কয়েকটি বাড়ির অবস্থাও একই রকম। ফলে এই দুর্ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা গ্রামে।
প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, বাড়িটি ছেড়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও ওই পরিবারটি শোনেনি। একাধিক বার তাদের সতর্ক করা হয় কিন্তু লাভ হয়নি।
পাটনা শুধু নয়, দেশের একাধিক এলাকায় এমন ঘটনা কম-বেশি রোজ ঘটে। আর্থিক চাপে বাড়ি মেরামত করে উঠতে পারেন বা অনেকে। অনেক সময় শরিকের ঝামেলাও থাকে। এরাজ্যেও এমন ঘটনা বহু রয়েছে। শহরের গলি গলিতে বিশেষ করে উত্তর কলকাতায় হাঁটলে বোঝা যায়। সম্প্রতি পর পর বাড়ির দেওয়াল বা ছাদ ধসে পড়ার খবর সামনে আসার পর কলকাতা পুরসভা পদক্ষেপ করে। বিশেষ নজরদারি চালিয়ে মানিকতলা, বেলেঘাটা, শ্যামবাজার-সহ একাধিক এলাকার এমন বাড়ি থেকে লোকজনকে সরানো হয়। সতর্ক করা হয় বার বার।