লোকসভায় বক্তব্য রাখার অনুমতি ঘিরে বিতর্ক থেকে। রিজিজুর কথায়, স্পিকার রুলিং দেওয়ার পরও তা মানা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী নাকি বলেছেন, বক্তব্য রাখতে তাঁর কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। এ প্রসঙ্গে রিজিজু স্পষ্ট করেন, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া সংসদে কেউ কথা বলতে পারেন না - এমনকি প্রধানমন্ত্রীও নন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 February 2026 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদে বাজেট অধিবেশনের (Budget Session 2026) মধ্যে নতুন করে চড়ল কেন্দ্র–বিরোধী তরজা। মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) বৃহস্পতিবার তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি আট সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, সেটি নাকি এক কংগ্রেস সাংসদের (Congress MPs) তোলা 'অবৈধ ভিডিও'। তাঁর অভিযোগ, ২০–২৫ জন কংগ্রেস সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) কক্ষে ঢুকে তাঁকে মৌখিকভাবে আক্রমণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও হুমকি দেন।
রিজিজু লেখেন, বিজেপি আলোচনা ও বিতর্কে বিশ্বাসী, কিন্তু সাংসদদের শারীরিক বা অন্য কোনও ধরনের হুমকি দেওয়াকে সমর্থন করে না। এর আগের দিনও তিনি অভিযোগ করেছিলেন, স্পিকারের কক্ষে ঢুকে কংগ্রেস সদস্যরা তাঁকে অপমান করেছেন। এমনকি স্পিকার 'গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত' হয়েছেন বলেও দাবি করেন রিজিজু এবং জানান তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওম বিড়লার সঙ্গে কথা বলেছেন।
This is the illegal video clip taken by a Congress MP when 20-25 Congress MPs entered the Chamber of Hon’ble Speaker, abused him and threatened Honb'le Prime Minister. Our party believes in debate & discussion and never encourage MPs to threaten physically. https://t.co/bezzALc7D3 pic.twitter.com/iM0a50Z4rg
— Kiren Rijiju (@KirenRijiju) February 12, 2026
ঘটনার সূত্রপাত, লোকসভায় বক্তব্য রাখার অনুমতি ঘিরে বিতর্ক থেকে। রিজিজুর কথায়, স্পিকার রুলিং দেওয়ার পরও তা মানা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) নাকি বলেছেন, বক্তব্য রাখতে তাঁর কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। এ প্রসঙ্গে রিজিজু স্পষ্ট করেন, স্পিকারের অনুমতি ছাড়া সংসদে কেউ কথা বলতে পারেন না - এমনকি প্রধানমন্ত্রীও নন।
অন্যদিকে, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi) সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কাউকে গালিগালাজ করা হয়নি। কয়েক জন সাংসদ উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেও তিনি নিজে শান্ত ছিলেন। “আমাকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। আমি চুপচাপ বসেছিলাম, শেষে শান্তভাবেই কিছু কথা বলেছি,” বলেন প্রিয়ঙ্কা।
তিনি একই সঙ্গে ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, এই চুক্তিতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। শ্রমিক সংগঠনগুলির ধর্মঘটের প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।
এদিকে, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সংসদে ভ্রান্ত তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ এবং আজীবন নির্বাচনে লড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। বাজেট ২০২৬–২৭ নিয়ে বক্তব্য রাখার পর রাহুলের অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়াতেও আপত্তি জানিয়েছেন রিজিজু।
উল্লেখ্য, রাহুল সম্প্রতি প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত বইয়ের উল্লেখ করে ২০২০ সালে চিন সীমান্ত ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও কেন্দ্র সেই দাবি খণ্ডন করেছে। সব মিলিয়ে, বাজেট অধিবেশন যত এগোচ্ছে, ততই তীব্র হচ্ছে সরকার ও বিরোধীর সংঘাত।