দুই মন্ত্রী দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুলের সহযোগীরা, তাঁদের হাসতেও দেখা যায়। মন্ত্রীরা চলে যাওয়ার পর সাংবাদিকরা রাহুলের দিকে ঘুরে প্রশ্ন তোলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপ্রমাণিত অভিযোগ’-এর কথা বলা হচ্ছিল। রাহুলের জবাব, তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে।

রাহুল গান্ধী এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 12 February 2026 07:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভায় বাজেট বিতর্কে (Loksabha Budget Session) তীব্র আক্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ চত্বরে তৈরি হল অন্য রকম রাজনৈতিক দৃশ্য। বুধবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সরাসরি গিয়ে উপস্থিত হলেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সামনে, যখন তাঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী (Prahlad Joshi) ও অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) তখন সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন, রাহুল গান্ধীর উচিত ছিল আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, এপস্টিন ফাইলস-সহ (Epstein Files) একাধিক প্রসঙ্গে অভিযোগ তোলার আগে তথ্য যাচাই করা। সেই সময়ই রাহুল সেখানে পৌঁছে বলেন, “আমিও আসছি, একসঙ্গে বলি চলুন।” ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি যোশীর হাত স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন এবং বলেন, “চলুন, পাশাপাশি দাঁড়াই, একসঙ্গে কথা বলি।”
এরপরই দুই মন্ত্রী দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুলের সহযোগীরা, তাঁদের হাসতেও দেখা যায়। মন্ত্রীরা চলে যাওয়ার পর সাংবাদিকরা রাহুলের দিকে ঘুরে প্রশ্ন তোলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপ্রমাণিত অভিযোগ’-এর কথা বলা হচ্ছিল।
রাহুলের জবাব, তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এপস্টিন ফাইলে (Epstein Files) হরদীপ সিং পুরী ও অনিল আম্বানির নাম রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপর সরাসরি চাপ রয়েছে বলেই আমেরিকার সঙ্গে এই ধরনের বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। কৃষক, তথ্য সুরক্ষা বা জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয়েও স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “কেউ একজন প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) গলা চেপে ধরে রেখেছে।”
এর আগে লোকসভায় বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে রাহুল মিক্সড মার্শাল আর্টের উপমা টেনে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘চোকহোল্ড’-এ রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, চাপের মুখেই দেশকে ‘বিক্রি’ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপি রাহুলের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “কোনও মা-ই কা লাল জন্মায়নি যে দেশকে বিক্রি করতে পারে।” তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী নেতা।
বুধবারই লোকসভায় কেন্দ্রকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। বলেছিলেন, মূল্য-সংবেদনশীল কৃষি ও দুগ্ধ বাজার আমেরিকার জন্য খুলে দিয়ে কেন্দ্র কার্যত “ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছে”। তাঁর প্রশ্ন, “দেশ বিক্রি করে দিতে লজ্জা করে না?” এর আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও এই চুক্তির কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, এতে ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, কৃষক, পশুপালন ও বস্ত্রশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে চুক্তি ঘোষণার পর কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কৃষিক্ষেত্র পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়নি।