দিল্লিতে এক প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মীকে এক মাস ধরে ডিজিটাল অ্যারেস্টে রেখে প্রতারকরা হাতিয়ে নিল ২৩ কোটি টাকা। সাইবার অপরাধে নড়েচড়ে বসল দিল্লি পুলিশ।

এআই দিয়ে তৈরি ছবি
শেষ আপডেট: 21 September 2025 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার প্রাক্তন ব্যাঙ্ক কর্মী। খোয়া গেল তাঁর ২৩ কোটি টাকা। প্রতারিত হচ্ছেন বুঝতে পেরেও এক্ষেত্রে কিছু করতে পারেননি
ওই ব্যক্তি।
ঘটনার সূত্রপাত ৪ অগস্ট। নরেশ মালহোত্রা নামে ওই ব্যক্তির ফোনে এক মহিলার কল আসে। তিনি নিজেকে এক টেলিকম সংস্থার আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। জানান, মালহোত্রার মোবাইল নম্বর নাকি বেআইনি কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এরপরই প্রতারণার নতুন খেলা শুরু হয়। একে একে ফোনে যোগাযোগ করেন মুম্বই পুলিশের এক ভুয়ো আধিকারিক, তাছাড়া এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং সিবিআইয়ের পরিচয়দানকারীরাও হাজির হয়।
৪ অগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা এক মাস মালহোত্রাকে মানসিক চাপে রেখে বন্দি করে রাখে প্রতারকরা। ভিডিও কল এবং ফোন কলের মাধ্যমে তাঁকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়, বাইরে বেরোতে কিংবা কাউকে কিছু জানাতে নিষেধ করে তারা। এর ফলে প্রতারিত হচ্ছেন বুঝতে পেরেও সে অর্থে কিছু করে উঠতে পারেননি প্রাক্তন ব্যাঙ্ক কর্মী।
আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে প্রতারকরা মালহোত্রাকে বাধ্য করে তাঁর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করতে। কোটাক মাহিন্দ্রা, এইচডিএফসি এবং কানাড়া ব্যাঙ্ক, এই সমস্ত অ্যাকাউন্ট থেকেই কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্টে সরানো হয়। শেষমেশ প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলে মালহোত্রার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট একেবারে খালি হয়ে যায়।
প্রথমে ভয় এবং প্রতারকদের চাপের কারণে পুলিশে অভিযোগ করতে সাহস পাননি মালহোত্রা। পরে অবশ্য সাহস সঞ্চয় করে তিনি ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় দিল্লি পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস ইউনিট।
তদন্তে উঠে এসেছে, টাকার লেনদেন একাধিক অ্যাকাউন্ট ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জায়গা থেকে তোলা হয়েছে। তবু দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই ১২ কোটি ১১ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করতে সক্ষম হয়েছে, এই টাকা পাওয়া গেছে প্রতারণার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে।
পুলিশ আধিকারিকরা অনুমান করছেন, প্রতারণাটির নেপথ্যে রয়েছে এক সুসংগঠিত চক্র, যারা একাধিক ভুয়ো বা মিউল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকার হদিশ গোপন করেছে। তাঁরা বলছেন, এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণার ভয়ঙ্কর দিক। এমন কৌশলে ভুয়ো আইনরক্ষকদের পরিচয় নিয়ে মানসিকভাবে বন্দি করে ফেলছে সাধারণ মানুষকে।
দিল্লি পুলিশের সাইবার ইউনিট ইতিমধ্যেই ডিজিটাল চিহ্ন অনুসরণ করছে, ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আরও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রাজধানীতে এই ঘটনা এখন পর্যন্ত অন্যতম চাঞ্চল্যকর ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণা হিসেবে সামনে এসেছে।