পুলিশ জানতে পেরেছে সকলেই রাজস্থানের বাসিন্দা এবং কলকাতায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। যদিও বেশিদিন কেউই এক জায়গায় থাকতেন না।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 June 2025 22:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ডিজিটাল অ্যারেস্টের (Digital Arrest) ঘটনা। এবার খাস কলকাতার (Kolkata) হোটেলে 'আটকে' রাখার অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, প্রতারকরা ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে খবর। কেন্দ্রীয় সরকারি এক উচ্চপদস্থ কর্মী (Central Govt Employee) এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ইতিমধ্যে এই অভিযোগ পেয়ে ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তেঁতুলতলার বাসিন্দা সৌভিক শিকদার পর্ণশ্রী থানায় অভিযোগ করে জানিয়েছেন, গত ২২ মে তাঁর কাছে একটি ফোন এসেছিল। একাধিকজন ছিল ফোনের ওপারে এবং তারা নিজেদের সিবিআই (CBI) বলে পরিচয় দিয়েছিল। জানান হয়, তাঁর নামে একটি পার্সেল এসেছে এবং সেই পার্সেলে মাদক রয়েছে। তিনি যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী তাই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য নাকি যাচাই করতে হবে। সৌভিকের দাবি, এই বলে তাঁকে প্রথমে পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁকে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' করা হয়।
এই কথোপকথনের মাঝেই প্রতারকরা তাঁর থেকে ২৫ লক্ষ টাকা অনলাইন ট্রান্সফার করান বলে অভিযোগ। সৌভিকের বক্তব্য, তাঁকে বলা হয়েছিল, সিবিআই তথ্য যাচাই করেই টাকা ফেরত দেবে। কিন্তু তেমনটা কিছুই হয়নি। এই ঘটনায় হাওড়া এবং নিউটাউনের বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম নরপত সিংহ, রাজেন্দ্র সোনি, হরিশ কুমার, মনোহর, সংগ্রাম সিংহ, সুরজ, দিলীপ এবং জিতেন্দ্র।
পুলিশ জানতে পেরেছে সকলেই রাজস্থানের বাসিন্দা এবং কলকাতায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। যদিও বেশিদিন কেউই এক জায়গায় থাকতেন না। বারবার জায়গা বদলাতেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই দুই জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ধৃতদের কাছ থেকে বেসরকারি ব্যাঙ্কের দু’টি সোয়াইপ যন্ত্র (পিওএস সোয়াইপ মেশিন), পাঁচটি স্মার্ট ফোন, ব্যাঙ্কের বেশ কয়েকটি পাশবই, চেকবই, আধার, প্যান, ভোটার কার্ডের জেরক্স উদ্ধার হয়েছে।