নিজামুদ্দিন ছাড়াও গাজিপুর হল এ অঞ্চলের সবথেকে মাংসের বাজার এলাকা। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমানা ঘেঁষা এই এলাকায় মাসভর বাজার বন্ধ থাকবে। দিল্লি, এনসিআর সহ নয়ডা, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদেও এখান থেকে মাংস সরবরাহ হয়। এখান থেকেই গিয়েছে জাতীয় সড়ক। কাঁওয়ার যাত্রীরা হাজারে হাজারে এই রাস্তা ধরেই যান।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 July 2025 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চলেছে দিল্লির নবনির্বাচিত বিজেপির রেখা গুপ্তা (Delhi CM Rekha Gupta) সরকার। ১১ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা শ্রাবণ মাস ভর কাঁওয়ার যাত্রার আগে মাছ-মাংস সহ আমিষ দোকান বন্ধ নিয়ে রাজনীতির ময়দানে দড়ি টানাটানি চলছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে, এই উপলক্ষে আগামী ১০ জুলাই থেকে রাজ্যের মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। কাঁওয়ার জলযাত্রীদের পথের দুধারে কোথাও যেন মাংস বিক্রি না হয়। এবার দিল্লির সরকারের মন্ত্রী কপিল মিশ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, কাঁওয়ার যাত্রার (Kanwar Yatra) সময়ে রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকাতেও মাংসের দোকান খোলা যাবে না।
মিশ্র বলেন, দিল্লিতে (Delhi) যেসব মাংসের দোকান রয়েছে, তার অধিকাংশ অবৈধ। কাঁওয়ার যাত্রার সময় কোনও মাংসের দোকানই খোলা যাবে না। যদিও দিল্লি পুলিশের তরফে এখনও কোনও নির্দেশিকা জারি হয়নি। কোন রাস্তা দিয়ে কাঁওয়ার যাত্রীরা যাবেন, তাও জানায়নি পুলিশ। উল্লেখ্য, দিল্লি পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতর। তবে কাঁওয়ার জলযাত্রীরা দিল্লির সব রাস্তা ধরেই যান।
সব মিলিয়ে দোকানদার ও বাসিন্দারা ধন্দে রয়েছেন। কোনও দোকানদারই এখনও সরকারিভাবে কোনও নোটিস হাতে পাননি। সেইভাবে কোনও নির্দেশও দেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে। উল্লেখ্য, দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় প্রচুর মাংসের দোকান রয়েছে। যেখানে কাঁচা ও রান্না মাংস বিক্রি হয়। দোকানদারদের বক্তব্য, প্রশাসন নির্দেশ দিলে বন্ধ রাখতেই হবে। কিন্তু, মাসখানেক ধরে বিক্রিবাট্টা বন্ধ রাখলে তাঁরা খাবেন কী?
নিজামুদ্দিন ছাড়াও গাজিপুর হল এ অঞ্চলের সবথেকে মাংসের বাজার এলাকা। দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমানা ঘেঁষা এই এলাকায় মাসভর বাজার বন্ধ থাকবে। দিল্লি, এনসিআর সহ নয়ডা, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদেও এখান থেকে মাংস সরবরাহ হয়। এখান থেকেই গিয়েছে জাতীয় সড়ক। কাঁওয়ার যাত্রীরা হাজারে হাজারে এই রাস্তা ধরেই যান। এবং গাজিপুরের প্রধান বাজারগুলিও জাতীয় সড়কের লাগোয়া। মন্ত্রীর দাবি অমান্য করে মাংসের দোকানিরা বলেন, কোনওটাই অবৈধ নয়। পুরসভার অন্দরেই এগুলি রয়েছে। অনেকেই রশিদও দেখালেন। তা সত্ত্বেও সরকার বললে তো দোকানের ঝাঁপ বন্ধ রাখতেই হবে, ক্ষোভের সঙ্গে জানান তাঁরা। তবে দিল্লি সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন চেম্বার অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির প্রধান ব্রজেশ গোয়েল। তিনি বলেন, ১৩ দিন দোকান বন্ধ রাখলে বিরাট কোনও ক্ষতি হবে না। কোটি কোটি হিন্দু ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবাবেগকে মর্যাদা দিয়ে কাঁওয়ার যাত্রাপথে মাংস বিক্রি বন্ধ রাখাই উচিত।