কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদী কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করা। সে লক্ষ্য অর্জনে গত কয়েক মাস ধরে মাওবাদী এলাকায় লাগাতার অভিযান চলছে। ইতিমধ্যেই বহু মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণও করেছেন (Maoist surrender)।

মাও-নেতা অনন্তর আত্মসমর্পণ!
শেষ আপডেট: 29 November 2025 17:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্র পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন বিকাশ নাগপুরে ওরফে মাওবাদী নেতা অনন্ত (Anant Maoist leader surrender)। তাঁর সঙ্গে আরও ১০ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ।
অনন্ত ছিলেন নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মাওবাদী)-এর মহারাষ্ট্র–মধ্যপ্রদেশ–ছত্তিশগড় (MMC) অঞ্চলের বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য এবং মুখপাত্র। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণ কতজন করবে এবং কখন করবে তা রাজ্য ও মাওবাদীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয়। এরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার নাগপুর রেঞ্জের ডেপুটি ইনস্পেক্টর অঙ্কিত গোয়েল এবং গণ্ডিয়ার পুলিশ সুপার গোরখ ভামরের কাছে আত্মসমর্পণ করেন ১১ জন (Maoist cadres surrender)। মহারাষ্ট্র সরকার এই মাওবাদী দলের বিরুদ্ধে মোট ৮৯ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। কেবল অনন্তর মাথার দাম ছিল ২৫ লক্ষ।
আত্মসমর্পণের আগে, অনন্ত ২২ নভেম্বর দুটি চিঠিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন, যাতে MMC অঞ্চলের অন্যান্য মাওবাদী ক্যাডারদের অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে পারেন। একই সঙ্গে, আত্মসমর্পণের আবেদন এবং নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ চেয়ে তিনি রাজ্য সরকারগুলিকে অনুরোধ করেছিলেন অভিযান বন্ধ রাখার জন্য। গত ২৭ নভেম্বর তিনি পুনরায় একটি চিঠিতে আত্মসমর্পণের সময় কমানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অনন্তের (Mao Leader Ananta) প্রাথমিক জীবনেই মাওবাদী মতাদর্শের প্রভাব পড়েছিল। মুম্বাইতে পড়ার সময় তিনি প্রথমবার মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে নাগপুরে ব্যাচেলর অফ এডুকেশন করতে গিয়ে গাডচিরোলিতে আন্দোলনে যোগ দেন। প্রায় পাঁচ বছর MMC অঞ্চলে কাজ করার পর তিনি ওই অঞ্চলের মুখপাত্র হন।
পুলিশ জানিয়েছে, অনন্ত প্রথম দিকে আত্মসমর্পণে কিছুটা দ্বিধা করলেও প্রথম ধাপে নিজের এবং দলের কয়েকজনের হাত থেকে অস্ত্র নামিয়ে বাকিদেরও আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূল ধারায় ফিরে আসার পথ সহজ করে দিয়েছেন।
কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদী কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নির্মূল করা। সে লক্ষ্য অর্জনে গত কয়েক মাস ধরে মাওবাদী এলাকায় লাগাতার অভিযান চলছে। ইতিমধ্যেই বহু মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণও করেছেন (Maoist surrender)। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন মাওবাদীদের শীর্ষ নেতা মাদ্ভী হিডমা। তাঁর মৃত্যুর ঠিক কয়েকদিন পরেই তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠায় মাও-নেতৃত্ব।
চিঠিতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস, ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের কাছে আবেদন জানানো হয়, যদি আত্মসমর্পণের জন্য কিছু সময় দেওয়া হয়, তবে বহু সদস্য অস্ত্র ত্যাগ করতে প্রস্তুত।
ইতিমধ্যেই আত্মসমর্পণের ঢল এবং ধারাবাহিক অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের শক্তি কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মাওবাদী নেতৃত্বের এই চিঠি ভবিষ্যতের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।