মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ইন্দোরের এক ফ্ল্যাটে কয়েকদিন কাটিয়েছিলেন সোনম। সেই ফ্ল্যাটের মালিক লোকেন্দ্র তোমার। সেখানেই সোনম একটি ব্যাগ ফেলে গিয়েছিলেন, যাতে ছিল একটি দেশি বন্দুক, তাঁর মোবাইল, গয়না এবং রাজার ৫ লক্ষ টাকার নগদ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 25 June 2025 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে (Raja Raghuvanshi Murder Case) চাঞ্চল্যকর মোড়। পুলিশি জেরায় সম্পর্কে থাকার কথা স্বীকার করেছেন সোনম রঘুবংশী (Sonam Raghuvanshi) ও রাজ কুশওয়াহা। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং সেই সম্পর্ক বজায় রাখতেই পরিকল্পনা করেই মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে রাজাকে খুন করেছেন তাঁরা, পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্য।
মেঘালয় পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) জানায়, অভিযুক্তদের জবানবন্দি ও ঘটনাস্থলে হত্যাকাণ্ডের পুনর্নির্মাণ ইতিমধ্যেই হয়েছে। যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে। তাই কোনও নার্কো টেস্ট করার প্রয়োজন নেই। এই প্রসঙ্গে ইস্ট খাসি হিলসের পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম জানান, "তদন্তে অভিযুক্তরা খুনের অপরাধ স্বীকার করেছে। ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাও দেখেছি। সমস্ত কিছু রেকর্ড রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নার্কো টেস্টের দরকার পড়ে না। তাছাড়া আদালতে নার্কো টেস্টের কোনও গুরুত্ব নেই।'
তিনি আরও বলেন, আদালতের উপযুক্তভাবে গ্রহণযোগ্য চার্জশিট তৈরি করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, রাজার পরিবারের তরফে অভিযোগ আনা হয়েছিল, এই হত্যাকাণ্ডে সোনমের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও জড়িত আছেন। তাঁদের সকলের নারকো টেস্টের দাবি তুলেছিলেন রাজার দাদা।
তদন্তকারীদের মতে, ব্যক্তিগত কারণেই রাজাকে খুন করা হয়েছে। সোনম ও রাজ তাঁদের সম্পর্কের পথে রাজাকে বাধা মনে করেছিলেন। সামাজিক নিয়ম, পারিবারিক চাপ, এসব ঠেলে দিয়ে দু’জনে ভবিষ্যৎ গড়তে চাইছিলেন। সেই কারণেই 'পথের কাঁটা' রাজাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ইন্দোরের এক ফ্ল্যাটে কয়েকদিন কাটিয়েছিলেন সোনম। সেই ফ্ল্যাটের মালিক লোকেন্দ্র তোমার। সেখানেই সোনম একটি ব্যাগ ফেলে গিয়েছিলেন, যাতে ছিল একটি দেশি বন্দুক, তাঁর মোবাইল, গয়না এবং রাজার ৫ লক্ষ টাকার নগদ। পরবর্তীতে সেই ব্যাগ সরিয়ে ফেলা হয়। পুলিশের ধারণা, প্রমাণ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছে। দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগও আনা হয়েছে। ফ্ল্যাট মালিক-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোনমের ব্যাগে থাকা গয়নাগুলি রাজার বাড়ি থেকে দেওয়া হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি সেই সোনার গয়না। তদন্ত চলছে, কোথায় গয়না লুকিয়ে রাখা হয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। এদিকে এই মামলায় আরও তিন অভিযুক্ত—প্রপার্টি ডিলার সিলোম জেমস, নিরাপত্তারক্ষী বালবীর এবং ফ্ল্যাট মালিক লোকেন্দ্র তোমারকে বৃহস্পতিবার শিলংয়ে আদালতে পেশ করা হবে।
রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড
১১ মে: ইন্দোরে বিয়ে হয় রাজা ও সোনমের।
২১ মে: দম্পতি শিলং পৌঁছায়, একটি গেস্ট হাউজে থাকতে শুরু করে।
২২ মে: শিলংয়ের কিটিং রোড থেকে একটি স্কুটি ভাড়া নিয়ে সোহরার দিকে যান।
২৩ মে: নিখোঁজ হন রাজা ও সোনম।
২৪ মে: সোহরা এলাকায় স্কুটিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
২ জুন: খাদে রাজার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় (Raja Raghuvanshi Murder Case)।
৭ ও ৮ জুন: উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে আত্মসমর্পণ করেন সোনম। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।