ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'Truth Social'-এ লেখেন, 'চীন (China) আবার ইরান থেকে তেল কিনতে পারে। আশা করি, ওরা আমেরিকার থেকেও প্রচুর তেল কিনবে। এটা সম্ভব করে তোলা আমার জন্য সম্মানের ব্যাপার!'

ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল চিত্র)
শেষ আপডেট: 25 June 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-ইজরায়েলের (Iran-Israel Conflicts) যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরেই আমেরিকার 'ইরাননীতি' ঘিরে দেখা গেল এক বড় পালাবদল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) হঠাৎ করেই চিনকে উৎসাহ দিলেন ইরান থেকে আবার তেল কিনতে, যা তাঁর আগের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতির সম্পূর্ণ উল্টো।
ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'Truth Social'-এ লেখেন, 'চিন (China) আবার ইরান থেকে তেল কিনতে পারে। আশা করি, ওরা আমেরিকার থেকেও প্রচুর তেল কিনবে। এটা সম্ভব করে তোলা আমার জন্য সম্মানের ব্যাপার!' এই বার্তার জেরে কূটনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা শুধু ট্রাম্পের আগের অবস্থানের পরিবর্তন নয় বরং মার্কিন বিদেশনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ধুঁকছে। তবে ইরান থেকে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় তেল কেনে চিন। গত এপ্রিল মাসে প্রতিদিন প্রায় ১৩ লক্ষ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে চিন। অথচ মাত্র এক মাস আগেই আমেরিকা ইরান-চিন তেল বাণিজ্যের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
এদিকে ট্রাম্পের (Donald Trump) বক্তব্যেও ধরা পড়ছে মিশ্র বার্তা। প্রেসিডেন্ট জানান, “আমি ইরানে শাসনের পরিবর্তন চাই না, কারণ সেটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।” এই মন্তব্য ট্রাম্পের আগের অবস্থানের সঙ্গে একেবারে বিপরীত। কারণ গত রবিবারই তিনি ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, 'রেজিম চেঞ্জ' (Regime Change) শব্দটা বলাটা রাজনৈতিকভাবে ঠিক নয় হয়তো। কিন্তু যদি বর্তমান ইরান সরকার ‘Make Iran Great Again’ না করতে পারে, তাহলে রেজিম চেঞ্জ কেন নয়?’
কূটনীতিবিদদের মতে, তেল আমদানিতে চিনকে উৎসাহ দিয়ে ট্রাম্প হয়তো রাশিয়া ও চিন প্রভাব রুখতে নতুন কৌশলের পথে হাঁটছেন। বিশ্বজুড়ে বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ভবিষ্যতে আমেরিকার কূটনীতিতে আরও বড় রদবদলের আভাস মিলছে এই বার্তায়।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমেছে, এবং শেয়ার বাজার কিছুটা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। Brent Crude-এর দাম এক ধাক্কায় ৫.৬% কমে যায়, যা ১৩ জুন ইজরায়েলের প্রথম হামলার আগের পর্যায়েরও নিচে। পরে আবার ইজরায়েল দাবি করে, ইরান নতুন করে হামলা করেছে, সেই দাবির প্রেক্ষিতে তেলের দাম কিছুটা বাড়ে।